জালালাবাদ থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৬

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান বিপিএম বলেছেন- ৭১ সালে তরুণরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। আর এ যুগের তরুণরা হাতে মাদক আর পকেটে চাকু নিয়ে ঘুরে। সম্প্রতি সিলেটের জিন্দাবাজারে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন- তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হলো। আমরা তারুণ্যের জয়গান গাই। এ কেমন তারুণ্য। এমন তারুণ্য আমরা চাই না।

তিনি আজ শনিবার সকালে জালালাবাদ থানা পুলিশিং কমিটির সম্মেলন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী আলেআচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে জঙ্গিবাদের উত্থ্যানের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন- যারা আফগান মুজাহিদদের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলো, তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থ্যান হয়েছিলো। কারণ সেসময় তারা ভালো ট্রেনিং নিয়ে বড় বড় অস্ত্র চালানো, বোমা বানানো, সদস্য সংগ্রহ, কিভাবে লুকিয়ে থাকতে হয়, এসব কৌশল শিখে। এরপর ১৯৯২ সালে তারা হুজি গঠনের মাধ্যমে ঢাকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপ্রকাশ করে। পরে রমনা বটমূল, যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠান, পূণ্যভূমি সিলেটের শাহজালালের মাজারে বিদেশী রাষ্ট্রদূতের উপর বোমা হামলাসহ অনেক নাশকতা করেছে। এসবের মধ্যেদিয়ে তারা জঙ্গিবাদের আত্মপ্রকাশ ঘটায়। একটা সময় যখন হুজিকে প্রতিরোধ করা হয়, তখন ১৯৯৮ সালে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ওহাবী মতবাদের কিছু ভূল ব্যাখ্যায় অনুপ্রাণিত হয়ে শায়খ আব্দুর রহমান বাংলাদেশের ইসলাম সঠিক নয়, শুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে জেএমবি গঠন করে। পরে তারা এক সাথে দেশের ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। আদালতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আইনজীবি, বিচারক, বিচারপ্রার্থীকে হত্যা করেছে। মানুষকে অমানবিক নির্যাতন করেছে। সেই জঙ্গিবাদের হোতাকে কিন্তু সিলেটে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি যারা জঙ্গিতৎপরতার সাথে জড়িত,তাদের মধ্যে সিলেটের অনেকে রয়েছে। শাবি থেকে অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুতরাং, জঙ্গিবাদ এখন আপনার বাড়ির উঠোনে, ঘরের মধ্যে হাজির হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর রাখতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

জালালাবাদ থানা পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে পুলিশ কমিশনার আরো বলেন- বঙ্গবন্ধু আজীবন এদেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্যয় করেছেন। নিজেদের সিদ্ধান্ত যাতে আমরা নিজেরাই নিতে পারি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উন্নয়ন যাতে সাধিত হয়, সেই লক্ষ নিয়েই তিনি সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে সে গতিধারাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। যেমন করা হয়েছিলো ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। সেজন্য আমাদের মসৃন পথ দরকার। তাই সবাইকে উন্নয়নের জন্য আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে তিনি বলেন- ১৮২৯ সালে রবার্ট পিল লন্ডন মেট্টোপলিটন পুলিশের জন্ম দিয়ে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করেন। সেখানে পুলিশের দায়িত্ব পালনে জনগনের সহযোগিতার কথা বলা আছে। সহযোগিতা পাওয়ার জন্যই ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই কথা আসছে। এটা নতুন কোন কথা নয়। ১৮২৯ সালে এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পুলিশের জন্ম হয়েছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিন পুলিশি কমিউনিটিংয়ের চর্চা করতে পারিনি। কারণ দীর্ঘদিন আমরা বৃটিশ শাষনে ছিলাম। সেভাবে তারা পুলিশকে গঠন করে নাই। ১৮৬১ সালে যখন পুলিশ আইন হয়, তখন বৃটিশরা লন্ডন মেট্টোপলিটন আইন মানা হয় নাই। বৃটিশ শাষকরা তাদের জনগণকে অথ্যাচার করে স্বার্থ হাসিলের জন্য এ আইন করে। যা এখনো বলবৎ আছে। কিন্তু সে আইনের বাইরে গিয়ে জনগনের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ার জন্য আমরা আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। সফলতাও আসছে। আগের চেয়ে অপরাধও এখন অনেক কমে গেছে। মানুষের মধ্যেও এখন আর পুলিশভীতি নেই। সমাজে মূল্যবোধ বাড়াতে, সমাজের নানাবীদ সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পুলিশিং অত্যন্ত জরুরী। এর সাথে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ বলেন- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে এদেশে সন্ত্রাসের জন্ম হয়েছিলো। তাদের পূর্বসূরিরা আজ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে থাকা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে উন্নয়নকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. ফযসল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, দক্ষিণ সুরমা কলেজের অধ্যক্ষ সামছুল ইসলাম, সোনাতলা সিরাজুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজুর রহমান, রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ময়নুল ইসলাম, মোগলগাঁও ইউ/পি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম টুনু মিয়া, টুকেরবাজার ইউ/পি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহিদ আহমদ, হাটখোলা ইউ/পি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, মোগলগাঁও ইউ/পি চেয়ারম্যান হিরন মিয়া, টুকেরবাজার ইউ/পি’র সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক, হাটখোলা ইউ/পি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মোশাহিদ আলী, বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী মঈন মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আফতাব আলী, সুদীপ দে, আব্দুল মজিদ মেম্বার প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ থানা পুলিশিং কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট