বুয়েটের ছাত্রত্ব চলে গেল যে ১৯ জনের

সিলেট বিভাগ

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বহিষ্কারের এ ঘোষণা দিয়েছেন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় এ ঘোষণা আসে। আলোচনার শুরুতে আবরারের রুহের মাগফিরাত কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এ সময় ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম ও ১৮তম ব্যাচের বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বুয়েট শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ভিসি বলেন, ১৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। চাইলেও এখনই স্থায়ী বহিষ্কার করা যায় না। পরে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।

এর আগে আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুয়েটের ছাত্রত্ব হারালেন যারা

আবরার হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (২৪)। রাসেল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের ছাত্র। ২ নম্বর আসামি মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩) বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি। ফুয়াদ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের ছাত্র। ৩ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার। অনিক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন। ৪ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান রবিন। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের ছাত্র। ৫ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল। তিনি বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন। ৬ নম্বর আসামি মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১) বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাহিত্য সম্পাদক। তিনি ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ৭ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। তিনি নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ৮ নম্বর আসামি মো. মাজেদুল ইসলাম (২১)। তিনি শেরেবাংলা হলের এমএমই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ৯ নম্বর আসামি মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (২১)। তিনি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সদস্য ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

১০ নম্বর আসামি মো. তানভীর আহম্মেদ। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন। ১১ নম্বর আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহা (২০)। পড়েন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। ১২ নম্বর আসামি মো. জিসান (২১)। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ১৩ নম্বর আসামি মো. আকাশ হোসেন (২১)। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ১৪ নম্বর আসামি মো. শামীম বিল্লাহ (২০)। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ১৫ নম্বর আসামি মো. শাদাত (২০)। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ১৬ নম্বর আসামি এহতেশামুল রাব্বি তানিম (২০)। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ১৭ নম্বর আসামি মো. মোর্শেদ (২০)। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের হলের ছাত্র। ১৮ নম্বর আসামি মো. মোয়াজ (২০)। তিনি সিএসই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ১৯ নম্বর আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সদস্য মুনতাসির আল জেমি। পড়েন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে।

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে গত রবিবার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে মেধাবী ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এরইমধ্যে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছেন। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  •  
  •  

Leave a Reply