ঘাতকদের ফাঁসি চাই

জাতীয়

দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের কাস-পরীা বর্জন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিার্থীরা। ফাহাদ হত্যার বিচারে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা বলেন, মামলার অভিযোগপত্র না দেয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার এবং অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, সে জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে কামনা করছি, বলেন তারা।
তারা আরও বলেন, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভিসিকে সময় দেয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি উপস্থিত হননি। তাই একাডেমিক এবং প্রশাসনিক সব ভবনে আমরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। তিনি এসে আমাদের সব দাবি মেনে নিলে তাকে যেতে দেয়া হবে। আংশিক দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস মানা হবে না। আবরার ফাহাদ হত্যার প্রায় ২৬ ঘন্টা পর বিকেল ৫টার দিকে ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে আসেন। সূত্র জানায়, তার কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও কয়েকজন বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সাইফুল ইসলাম। এ সময় ভিসি কার্যালয়ের প্রতিটি গেটে অবস্থান নেন শিার্থীরা।
মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিার্থীরা। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটের সাধারণ শিার্থীরা। ফাহাদ হত্যার বিচারে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। আন্দোলনকারী শিার্থীদের দাবি, ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে করতে হবে। হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফাঁসি দিতে হবে। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া প্রশাসনের জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে সকাল থেকে বুয়েট ক্যাম্পাস উত্তাল। আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বুয়েটের সাধারণ শিার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একটি মিছিল শুরু করেন। এ সময় ‘খুনীদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘প্রশাসনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ভিসি তুই নীরব কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’Ñ এসব সেøাগান দিতে শোনা যায় শিার্থীদের।
এর আগে গত সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে আবরারের লাশ বুয়েট ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে পরিবারের স্বজন, শিক, শিার্থী ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বুয়েটের অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনরা আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়াতে দাফন করাতে নিয়ে যান। শিার্থীরা জানান, আবরারের জানাজায় পরিবারের সদস্যরা, শিক-শিার্থী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতি ল্য করা যায়। জানাজার পর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সামনে শিার্থীরা সমাবেত হয়ে খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বিােভ শুরু করে। এরপর সেখান থেকে বিােভ মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, তিতুমীর হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ কয়েকটি হল প্রদণি করে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। ওই সমাবেশ থেকে বিােভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা। এরপর সমাবেশ শেষ করে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।
প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে গত শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রবিবার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর ক থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকান্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় গত সোমবার রাতে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাকে মারধরের সময় ২০১১ নম্বর কে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু।
শিার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, গত শনিবার বাংলাদেশ-ভারত হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরে সেটি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই হলের শিার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানান। এরপর সিদ্ধান্ত হয় আবরারকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে অনুযায়ী শনিবার রাত ৮টার দিকে ১০১১ নম্বর ক থেকে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। এ সময় তার সঙ্গে উল্লিখিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিার্থী। এদের মধ্যে দুজন রবিবার রাত ৮টার দিকে আবরারকে ডেকে ২০১১নং কে নিয়ে যান।
সূত্র আরও জানায়, সেখানে নেয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগে থেকেই ওই রুমে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি, চাপাতি রাখা ছিল। তা দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে পড়লে কোলে করে মুন্নার কে (২০০৫নং) নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় অচেতন আবরারকে নিয়ে যায় তারা। যাতে শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা না যায় সে জন্য কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয় তার দেহ। এরপর হল প্রভোস্ট ও চিকিৎসককে খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন কর্তৃপ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে আবরারকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে একটি তোশকের ওপর রাখে। এরপর তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবরারকে পেটানো সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজের একটি অংশ সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বুয়েট শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কে সমাজসেবাবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিার্থী ছিলেন। ওই কে এসে দ্বিতীয় দফা আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যদর্শী বলেন, পেটানোর পর আবরারের মৃত্যু হলে রাতে তারা সহপাঠীদের ডেকে লাশ নিচতলার সিঁড়ির সামনে রাখে।
শিার্থীদের তোপের মুখে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ডের পর ‘লাপাত্তা হওয়া’ বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমান ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে গেলে বিােভরত শিার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় শিার্থীদের বিােভস্থল বুয়েট শহীদ মিনারে গেলে অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে দেখে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’, ‘সেইম’, ‘সেইম’ বলে সেøাগান দিতে থাকেন শিার্থীরা। আন্দোলনকারী শিার্থীরা এ সময় তার পদত্যাগও দাবি করেন। শিার্থীরা তার কাছে জানতে চান, আপনি কি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন? এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আমার বিবেকের কাছে পরিষ্কার যে, আমার দায়িত্ব আমি পালন করেছি।’ এ কথা বলতেই ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ সেøাগান তোলেন আন্দোলনকারীরা। সৃষ্টি হয় চরম হট্টগোলের। একজন শিার্থী বলেন, ‘সবার সামনে আপনি ভিসিকে কল দেন। এতগুলো ঘটনা ঘটলো এটা কারা করলো?’ মিজানুর রহমান বলেন, ‘তোমার মনে যেমন ব্যথা আমার মনেও তেমন ব্যথা আছে।’ এ সময় ওই শিার্থী বলেন, ‘ব্যথা থাকলে আপনি কাল (সোমবার) ক্যাম্পাসে থাকতেন।’ পরিচালক বলেন, ‘আমাদের দেশে যে পরিস্থিতি তাতে মনে হয় না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি থাকার প্রয়োজন আছে।’ এ সময় আন্দোলনকারী শিার্থীরা বলেন, ‘বুয়েটে আপনি কী করবেন?’ এ সময় মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকার প্রয়োজন নেই।’ এ সময় শিার্থীরা জানতে চান, ‘কতদিনের মধ্যে এটা (ছাত্র রাজনীতি বন্ধ) কার্যকর করবেন, বলুন।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘ইমিডিয়েট আমরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেব। ভিসিকে আমি বলব। আমরা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারি।’ পরে শিার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি? বিষয়টি তাকে (বুয়েট ভিসি) ক্যাম্পাসে এসে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার (ছাত্র কল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান) কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, তা উনাকে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার মধ্যে সকলের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।’ গত রবিবার রাত ৩টার দিকে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ওই রাতেই হলের ২০১১ নম্বর কে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে গত সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আবরার হত্যা : রিমান্ডে ছাত্রলীগের ১০ নেতা
আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের ১০ নেতার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় চকবাজার থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরা হলেনÑ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, গ্রন্থণা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না এবং খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির। ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে গত রবিবার বিকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। এর জের ধরে ওইদিন রাত ৮টার দিকে তার ক থেকে ডেকে নিয়ে যায় শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। পরে রাতভর পিটিয়ে নির্মম নির্যাতনে হত্যা করে তাকে। এ ঘটনায় আবরার ফাহাদের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন।

  •  
  •  

Leave a Reply