রাঙ্গামাটিতে সেনা টহলে হামলার পেছনে কারা?

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

রাঙ্গামাটিতে সেনা টহলে হামলার পেছনে কারা?

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে রোববার সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দলের ওপর একই দিনে দু দুটো হামলার ঘটনায় উদ্বেগের পাশাপাশি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসিকে বলেন, তিনি এই হামলার ঘটনায় হতভম্ব হয়েছেন। খবর বিবিসি বাংলার

শান্তি প্রক্রিয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরণের হামলার কথা আমি শুনিনি…হঠাৎ করে এই অ্যামবুশ, বলেন ব্রিগেডিয়ার হোসেন যিনি নব্বইয়ের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন ব্রিগেড কম্যান্ডার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সেনাবাহিনীর ওপর বড় কোন হামলার কথা শোনা যায়নি। তবে, গত প্রায় বছর-খানেক যাবত পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে পরপর বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং তার পরদিনই আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাহাড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এরপর গত কয়েক মাসে পরপর আরো কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেসবের পেছনে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইকেই দায়ী করা হয়।

ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এখন কারা কোন উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করলো?

Manual6 Ad Code

রোববারের ঘটনা সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক লাইনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে কাউকেই সন্দেহ করা হয়নি।

তবে বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে একাধিক পর্যবেক্ষক অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন আরাকান আর্মি নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি রোববারের হামলা সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি হাতে পেয়েছেন যা দেখে তার মনে হয়েছে হামলাকারীরা দেশের বাইরে থেকে আসা।

তাদের (হামলাকারীদের) হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল যেগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের হাতে দেখা যায়, তাদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল, এবং গড়ন দেখে মনে হয়না যে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কোনো একটি সদস্য।

রাঙ্গামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহি বলেন, রাজস্থলী নামে যে এলাকায় এই হামলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল।

এলাহি বলেন, বছর দুই আগে রাজস্থলী উপজেলা থেকেই আরাকান আর্মির অন্যতম শীর্ষ নেতা রেনিন সোয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবং সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি দলের উপস্থিতির কথা আমরা শুনেছি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মগ লিবারেশন পার্টি নামে নতুন একটি দলের নামও শোনা যাচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আরকান আর্মি তাদের হয়ে লড়াই করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা থেকে রিক্রুট করার চেষ্টা করছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, আরাকানের বৌদ্ধদের সাথে পার্বত্য এলাকার কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর চেহারা এবং গড়নে অনেক মিল রয়েছে। অনেক সময় তাদের দেখে আলাদা করা কঠিন।

কিন্তু যোদ্ধা রিক্রুট করার সন্দেহ যদি সঠিকও হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করার কারণ কী থাকতে পারে?

ব্রিগেডিয়ার হোসেন মনে করেন, এটা ইচ্ছাকৃত উস্কানি হতে পারে। উস্কানি দিলে যদি সেনাবাহিনী বড় কোনো অভিযান শুরু করে তাহলে এই এলাকা থেকে স্থানীয় যুবকদের রিক্রুট করা তাদের (আরাকান আর্মির) জন্য সুবিধা হবে।

Manual4 Ad Code

তবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্রিগেডিয়ার হোসেন। কিছুদিন আগে আরাকান আর্মির কিছু সদস্যকে ধরে মিয়ানমারের হাতে তুলে দেওযা হয়েছিল, তার বদলা হিসাবেও এই হামলা হতে পারে।

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, যদি এটা উস্কানি হয় এবং সেনাবাহিনী যদি সেই উস্কানিতে সাড়া দেয় তাহরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন না হলেও উৎকণ্ঠার অনেক কারণ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল করেছে। এই ঘটনার পর তারা যদি আবার শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে আরেক ধরণের সমস্যা হতে পারে।

রোববারের হামলার পর সম্পৃক্তদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হতে পারে এমন আশংকায় রাজস্থলী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল সোমবার।

রাজস্থলী উপজেলার চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বিবিসিকে বলেছেন, ভয়ে অনেক লোক গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।

Manual7 Ad Code

এলাকায় ভয়ভীতি বিরাজ করছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পালিয়ে আছে তারা। এখন অশক্ত বয়স্ক মানুষেরাই কেবল আছে এলাকায়।

Manual2 Ad Code

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code