ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, ৮ সেনা নিহত

জাতীয়

কাশ্মীর উত্তেজনার মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতের পাঁচ ও পাকিস্তানের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গাফুরের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস। এরই মধ্যে এ হতাহতের খবর এলো।

নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টুইটবার্তায় গাফুর লিখেছেন, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু আড়াল করতে ভারতীয় বাহিনী উসকানিমূলকভাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে আমাদের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পাল্টা জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। এতে ভারতের পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেক। এছাড়া একাধিক বাঙ্কার ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের নিহত তিন সেনা সদস্যরা হলেন- নায়েক তানভির, ল্যান্স নায়েক তৈমুর ও সিপাহি রমজান।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, ৮ সেনা নিহত
 নিহত পাকিস্তানি ৩ সেনা

এদিকে পাকিস্তানের তিন সেনা নিহতের খবর ছাড়া  আসিফ গাফুরের বাকি সব দাবিই অস্বীকার করেছে ভারত। তাদের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালিয়েছে। আর, কোনো ভারতীয় সেনা মারা যায়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’কে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি কল্পিত।

বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। অন্যদিকে সম্প্রতি ভারত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় পাকিস্তান দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট  ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন; আর ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে।

Leave a Reply