অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষাদের ঈদ

আন্তর্জাতিক

নয়াদিল্লী : জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে কেন্দ্রের অধীন, দুই রাজ্যে বিভক্ত, কারফিউ, গণগ্রেফতার, রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ, হতাহত- এসবের মাঝেই এবার ঈদুল আজহা পালন করলেন ভারতশাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দারা।

আগের ২ দিন কাশ্মীর উপত্যকায় কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল থাকলেও ঈদের দিন সকাল থেকেই নিষেধাজ্ঞা আরও জোরালো হয়। সেখানকার বড় বড় মসজিদ, ঈদগাহগুলো বন্ধ ছিল; পশু কোরবানি দিতে পারেননি বেশিরভাগ বাসিন্দা। খবর বিবিসি বাংলার

এরই মাঝে হিন্দু অধ্যুষিত জম্মু থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার, কিছুদিন পর কাশ্মীর উপত্যকা থেকেও তোলার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও বলেছেন, স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের কিছুটা সময় নেয়া উচিত।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ১ সপ্তাহের মাথায় রাজধানী শ্রীনগরসহ কাশ্মীর উপত্যকায় সোমবার কোরবানির ঈদ পালিত হয়েছে কঠোর কারফিউর মধ্যে। শ্রীনগরের বড় কোনো মসজিদ বা প্রধান রাস্তায় ঈদের জামাতের অনুমতি দেয়া হয়নি।

বিবিসির সাংবাদিক জানান, ঈদের দিন নতুন করে কড়াকড়ির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। তারা দাবি করেন- কারফিউ নেই, শুধু চারজনের বেশি লোক একসঙ্গে এক জায়গায় জড়ো হতে পারবেন না। অথচ সাংবাদিকরা বলছেন, সেখানকার রাস্তায় পুলিশের গাড়ি থেকে মাইকিং করা হয়েছে, কেউ যেন বাড়ি থেকে না বেরোয়। মানুষকে বলা হয়েছে, নিজেদের মহল্লাতে স্থানীয় ছোট মসজিদেই যেন তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদের দিন পুলিশের ছররা বন্দুকের গুলিতে আহত হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে ভারত সরকার তা অস্বীকার করেছে। দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারফিউর নিয়ম-নীতিগুলো এমন ছিল যে, স্থানীয়দের জন্য পশু কোরবানি, কসাই নিয়োগ বা জমায়েত হওয়া বিপজ্জনক ছিল; তাই বেশিরভাগ লোকই কোরবানি দেননি। এমনকি আত্মীয়রাও পরস্পর দেখা করতে পারেননি।

এবারের কোরবানির ঈদে কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে ছিল দমবন্ধ আতঙ্ক, উত্তেজনা আর হতাশার ছবি। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা কাশ্মীরের জন্য উৎসর্গ করেছে পাকিস্তান। মুসল্লিরা ভারতশাসিত কাশ্মীরিদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করেছেন। কথামতোই সাদামাটা ঈদ করে কাশ্মীরের সঙ্গে সংহতি জানায় পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকশাসিত কাশ্মীরের মুজাফফরবাদে ঈদের জামাত আদায় করেন।

এদিকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এএফপি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুতে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকায় জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর থেকে শিথিল করা হবে। তবে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। রয়টার্স জানিয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর মঙ্গলবার লেখা এক চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধের উসকানি দেবে না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।

  •  
  •  

Leave a Reply