ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহে সারা দেশে আজহা পালিত

জাতীয়

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বাংলা ও আরবিতে ঈদ মোবারক খচিত ব্যানারে সজ্জিত করা হয়।

সারা দেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডেস্ক রিপোর্ট-

সিলেট : সিলেটে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুস্টিত হয় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে। জামাতে নামাজে ইমামতি করেন বন্দর বাজার কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ কামাল উদ্দিন। নামাজ শেষে দেশ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ ও শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে একই সারিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষ নামাজ আদায় করেন।

এখানে নামাজ আদায় করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিলেট সিটির নব-নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশাসনিক, সামাজিক ও সুশীলসহ সর্বস্তরের মানুষ।

শাহী ঈদগাহে বরাবরের মত এবারও লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মূল ঈদগাহ ছাড়িয়ে ঈদগাহ পার্শ্ববর্তী সড়কেও ঈদের নামাজ আদায় করেন লোকজন।

সিলেটের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত সকাল ৮টা হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে সিলেট কালেক্টরেট মাঠ, টিলাগড়ে শাহ মদনী ঈদগাহ, শাহপরাণ মাজার মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল পৌনে আটটায় আলীয়া মাদরাসা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে নগরীর হাজী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে তিনটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টায় প্রথম জামাত, সকাল ৮টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ৯টায় শেষ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দানে ও ১২ উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী সহস্রাধিক ঈদগাহ ও মসজিদে সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

নামাজ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অনেকেই বাড়ি ফিরে পশু কোরবানি দেন।

জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও জেলায় ১ হাজার ৪৫৩টি ছোট-বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫২০টি ঈদগাহে এবং ৯৩৩টি মসজিদে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।

সিলেট মহানগরীতে ছোট-বড় ২৬৬টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যার ৮৩টি হয় ঈদগাহে এবং ১৮৩টি অনুষ্ঠিত হয় মসজিদে। নগর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, সিলেট জেলায় ১ হাজার ১৮৭টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৭৫০টি মসজিদে এবং ৪৩৭টি ঈদগোহে ঈদ জামাত অনুষ্টিত।

শোলাকিয়া, (কিশোরগঞ্জ)

দেশের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ১৯২তম পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহর ঐতিহ্য অনুসারে মুসল্লিদের প্রস্তুতির জন্য জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে তিনটি এবং পাঁচ মিনিট আগে তিনটি শটগানের গুলি ছোঁড়া হয়।

দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং এপিবিএন ছাড়াও দুই প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। পুরো মাঠ নজরদারি নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রশাসনের। বসানো হয়েছিল আর্চওয়ে, ওয়াচটাওয়ার ও তল্লাশি চৌকি। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ঈদগাহে ঢুকতে দেওয়া হয়।

খুলনা

খুলনায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায়। এ বিশাল জামাতে ইমামতি করেন খুলনা টাউন জামে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব মাওলানা আবু দাউদ। এছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের জামাতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রংপুর

রংপুরে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মুসল্লিরা অংশ নেন।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ শহরে ১৭টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় শহরের কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হাইকোর্টের বিচারপতি মিসবাহ উদ্দিন রুমি, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিপুর ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ।

দিনাজপুর

দেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান দিনাজপুরের গোড়ে শহীদ বড় ময়দানে সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ষষ্ঠ বারের মতো আয়োজিত এই ঈদের জামাতে প্রায় চার লাখ মুসল্লির সমাগম হয় বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল ইসলাম কাশেমী।

ঈদের জামাতে সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। ঈদ জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না।

রাজশাহী

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রাজশাহীতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। রাজশাহীতে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় হয়রত শাহমখদুম ঈদগাহ মাঠে।

এখানে নামাজ আদায় করেন- রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী- (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাংসদ ডা. মনসুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, নগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

মাদারীপুর

মাদারীপুরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মার সর্ববৃহৎ উৎসব পবিত্র ঈদুল-আজহা পালিত হচ্ছে। মাদারীপুর কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল সোয়া ৮টায় এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুরের ঐতিহ্যবাী তাতীবাড়ী ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮ টায় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন সকালে পৌর ঈদগাহ মাঠে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ ও সাাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণ ঈদের নামাজ আদায় করেন।

  •  
  •  

Leave a Reply