অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন : চট্টগ্রামের জনসমুদ্রে মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

চট্টগ্রামের বিশাল সমাবেশে জনতার এক আওয়াজ॥ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দিয়ে নতুন নির্বাচন দিন ॥ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জনতার ঢল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মাতা এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যিনি আজীবন লড়াই করেছেন সেই নেত্রীর মুক্তির জন্যে আপনারা আজ এখানে এসেছেন। যখন গণতন্ত্রের জন্য দেশনেত্রীর এখানে আসার কথা তখন তিনি কারাগারে আবদ্ধ আছেন। যিনি দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছেন তাঁকে আজ ভালভাবে রাখা হয়নি। তিনি চিকিৎসার জন্য নিজস্ব চিকিৎকদের সুযোগ দেয়ার দাবি করলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ছাত্র জনতা, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে না পারলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে হবে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন নির্বাচনে জনগণের আস্থা নেই।
তিনি গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়িস্থ নূর আহমদ সড়কে বিএনপি আয়োজিত বিশাল মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতে কোরান তেলাওয়াত করেন ওলামা দলের হান্নান জিলানী, গিতা পাঠ করেন ছাত্রদলের সৌরভ প্রিয় পাল।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরাচারিভাবে দেশ চালাচ্ছে তাই তারা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। বন্যাদুগর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে হবে। জনগণকে নিয়ে গণঅভুত্থান ঘটাতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, খুন-ধর্ষণের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নিজেদের ভাগ্য নিজেরা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের অধিকার অন্য কেউ ফিরিয়ে দেবে না। সরকারকে বলব, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে আপনাদের শেষ রক্ষা হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের অধিকার আমাদেরই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের অধিকার অন্য কেউ রক্ষা করে দেবে না। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন অন্য কেউ করবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আন্দোলন অন্য কেউ করবে না। আজ আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি ছাড়া কারাবন্দি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, যখন গণতন্ত্রের জন্য দেশনেত্রীর এখানে আসার কথা তখন তিনি কারাগারে আবদ্ধ আছেন। যিনি দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছেন তাঁকে আজ ভালভাবে রাখা হয়নি। তিনি চিকিৎসার জন্য নিজস্ব চিকিৎসকদের সুযোগ দেয়ার দাবি করলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রলম্বিত করে তাঁকে সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা মামলাকে কারসাজি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আইনি যে অধিকার সংবিধানসম্মত, সেই আইনি অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁকে জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। সেজন্য কলা-কৌশল করে, তারা (সরকার) কারসাজি করে, ছল-চাতুরি করে, তাঁর মুক্তিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সমগ্র দেশের মানুষের কাছে, সব রাজনৈতিক দলের কাছে আহবান জানিয়েছি যে, আপনারা আসুন ঐক্যবদ্ধ হোন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ’৭২ সালে ক্ষমতায় এসে বাকশাল কায়েম করেছিল এদেশের মানুষ তা এখনো ভুলে যায়নি, তারা রক্ষী বাহিনী গঠন করে হাজার হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করেছিল। এখন আবার একই কায়দায় আমাদের নেতা কর্মীদের হত্যা, গুম করে যাচ্ছে। সেই দল আজকে আবার বিভিন্ন লুকোচুরির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি একটা কথা বলতে চাই, এদেশের মানুষ আমরা কখনো পরাজয় স্বীকার করিনি। ঐক্য সৃষ্টি করে সেদিন স্বৈরাচার আইয়ুব খানকে পরাজিত করেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ তৈরি করেছি। আমরাই ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে তাদেরকে পরাজিত করেছি এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। গতকাল শনিবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে জনসভায় যোগ দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুর দুইটার মধ্যে নুরআহম্মদ সড়ক, কাজির দেওরি এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশ আলমাস, ওয়ার মোড়, লালখান বাজার এবং লাভলেইন পর্যন্ত চলে যায়। সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, নগরীর বিভিন্ন ওর্য়াড থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি যুক্ত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জনগণ দুপুরের আগেই সমাবেশ প্রাঙ্গণে আসতে থাকে। অনেকে আবার আগের দিন চট্টগ্রাম শহরে এসে অবস্থান নেয়। দুপুর ২টার আগেই নেতাকর্মীরা প্রবেশ কর। এক সময় পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হওয়া সকলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই মুক্তি চাই সেøøাগান দিতে থাকে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে চেক এবং জনগণকে সমাবেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অনেক নেতা অভিযোগ করেছেন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ^^র চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজান, মীর মোঃ নাছির উদ্দীন, আবদুল আওয়াল মিন্টু, গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভিপি, ডঃ সুকোমল বড়ুয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হকল ফজু, বেগম রোজী কবির, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিঃ মাহবুব উদ্দীন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাবেসের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মৎস্য সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহিলা সম্পাদক নুরী আরা সাফা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, হারুনুর রশীদ ভিপি, সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সহ-ধর্ম সম্পাদক অ্যাড. দীপেন দেওয়ান, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিঃ সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মশিয়ুর রহমান বিপ্লব, মজিবুর রহমান, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, কক্সবাজার জেলার সভাপতি শাহজান চৌধুরী, রাঙ্গামাটির সভাপতি শাহ আলম, বান্দরবানের সভাপতি সাচিং প্রু জেরী, কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ইয়াসিন আলী, বিএনপি নেতা এম এ আজিজ, অ্যাড. আবদুস ছাত্তার, দীপন তালুকদার দিপু, এস কে খোদা তোতন, শেখ মহিউদ্দীন, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দীন, নাজিমুর রহমান, রফিকুল আলম মজনু, শহিদুল ইসলাম ফরহাদ, কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার, মোঃ জাবেদ রেজা, আলী আব্বাস, নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, জসিম উদ্দীন সিকদার, কাজী বেলাল উদ্দীন, শাহ আলম আবদুল মান্নান, আহমেদুল আলম রাসেল, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, অ্যাড. আবু তাহের, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি কাউন্সিলার মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি মোঃ শাহজান, উত্তর জেলা যুবদল সভাপতি হাসান জসিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু প্রমুখ ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

Leave a Reply