মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, বাবার দাবি জবরদস্তি

সারাদেশ

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। শুক্রবার হঠাৎ করে কড়া নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

বরগুনার সিনিয়র মেজিস্ট্রেট আদালত এর আগে বুধবার মিন্নিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে দেন। রিমান্ডের দুদিন শেষে তাকে আদালতে তোলা হলো।

এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির মিন্নিকে আদালতে হাজিরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাকে আদালতে হাজির করার সংবাদে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও আদালত প্রাঙ্গণে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, নির্যাতন ও জোর জবরদস্তি করে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

রিমান্ড শেষ না হতেই কেন মিন্নিকে আবারও আদালতে হাজির করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুই জানাননি আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা শুধু বলেছেন, এ মামলার তদন্তের স্বার্থেই আপাতত কিছু জানানো যাচ্ছে না।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

১৩ জুলাই রাতে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রেফতার দাবি করেন। রিফাতের বাবার অভিযোগের ফলে আলোচিত এই হত্যা মামলা নাটকীয় মোড় নেয়।

রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

  •  
  •  

Leave a Reply