পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১৪

সারাদেশ

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাবনায় ৪, সুনামগঞ্জে ২, রাজশাহীতে ১, চুয়াডাঙ্গায় ৩ ও ময়মনসিংহে ৪ জনের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৩ জুলাই) ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পাবনার বেড়া উপজেলায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের মুতালেব সরদার (৫৫), তার দুই ছেলে ফরিদ সরদার (২২) ও শরিফ সরদার (১৮) এবং একই গ্রামের রহম আলী (৫৫)।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সময় তারা পাচুরিয়া স্কুল মাঠের পাশে ডোবায় পাট জাগ দিচ্ছিলেন। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে তাদের ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকালে উপজেলা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামে বৌলাই নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিনের মানিকখিলা গ্রামের মৃত মিরাজ আলীর ছেলে হারিদুল (৪৫) ও তার ছেলে (হারিদুল) তারা মিয়া (১০)।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহাব উদ্দিন জানান, সকালে একটি ছোট নৌকায় বাবা-ছেলে মিলে বৌলাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। পৌনে ৯টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে দুরুল হোদা (৫৫) নামের এক কৃষক মারা গেছেন। শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের মাছমারা বেনীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আজম তৌহিদ জানান, সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে গেলে দুপুর তিনটার দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখা যায়। এই সময় আকাশের মেঘের গর্জন হয় সেই সাথে ভারী বৃষ্টি হলে হঠাৎ বজ্রপাতে কৃষক দুরুল হুদা ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতে তিন দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। শনিবার বিকালে উপজেলার খোরদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মেহেরপুর সদরের কলাইডাঙ্গা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আলামিন (৩০), গোলাম রসুলের ছেলে হুদা (৩২) ও বরকত আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক লিয়াকত আলী জানান, খোরদ গ্রামে সকাল থেকে ট্রাকে কলা বোঝাই করার কাজ করেছিলেন কয়েকজন দিনমজুর। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে সাতজন আহত হলে তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া আহম্মেদ।

এ ঘটনায় আহত চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি বলেন, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে অসর্তকভাবে কাজ করার সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুর, তারাকান্দা ও ফুলবাড়ীয়াসহ ৩ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন- ফুলপুরের বওলা ইউনিয়নের রামসোনা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), একই উপজেলার পয়ারী গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন (৪০), তারাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধলিরকান্দা গ্রামে চান মিয়া (৫২) এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাতিলেইট গ্রামের মলিন বর্মণের ছেলে চৈতন বর্মণ (২২)।

শনিবার দুপুরে জেলার ৩ উপজেলায় এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের পয়ারী গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন মাঠে আমন ধানের চারা পরিচর্যা করার সময় বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে মাঠে হাঁস চড়ানোর সময় বজ্রপাতে বওলা ইউনিয়নের রামসোনা গ্রামের মো. আব্দুল মজিদের পুত্র সোহাগ মিয়ার মুত্যু হয়।

ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন্নাহার শাম্মী বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে তারাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধলিরকান্দা গ্রামে চাঁন মিয়া বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে চৈতন বর্মণ নামে এক জেলে নিহত হন।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply