আ ফ ম কামালের বর্ণাঢ্য জীবন

সিলেট বিভাগ

১৪ জুলাই ২০১৯, রোববার : অধুনালুপ্ত সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল ফজল মোহাম্মদ কামাল ১৯৪৩ সনের ২০ ডিসেম্বর সিলেট শহরের হাওয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি ১৯৬৫ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইন ব্যবসার সাথে সাথে ন্যাপে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হন। তিনি ১৯৬৯ সালে সিলেট শহর ন্যাপের সভাপতি এবং ১৯৭২-১৯৭৪ সালে সিলেট জেলা ন্যাপের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিশেষ কারণে ১৯৭৫ সালে ন্যাপ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে সরে আসেন।

আ ফ ম কামাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে দেশে প্রত্যাগতদের স্বাগতম জানানোর জন্যে স্থাপিত কেন্দ্রসমূহের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাদের পুনর্বাসনে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে তিনি সিলেট জেলা বারের সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরের বছরও তিনি একই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

কামাল ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর রাষ্ট্রীয় গন্ডি অতিক্রম করে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরূপে যোগদান করেন এবং সেখানে তাৎপর্যময় বক্তব্য রাখেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সালে আ ফ ম কামালের উদ্যোগে পবিত্র কাবা শরীফের প্রধান ইমাম সিলেটে শুভাগমন করলে তাকে পৌরসভা হলে ও শাহী ঈদগাহ ময়দানে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯৮৭ সালে সিলেট পৌরসভার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলনের আয়োজন করা হলে এতে দেশ-বিদেশের ইতিহাসবেত্তাগণ আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৬ সালে সিলেট পৌরসভা জাপানভিত্তিক বিশ্ব মেয়র সংহতি পরিষদের সদস্য পদ লাভ করে। সেই সময়ে আ ফ ম কামালের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ই তৎকালীন একমাত্র সিলেট পৌরসভাই সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে এ গৌরবের অধিকারী হয়েছিলো ।

আ ফ ম কামাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর তাঁর সাড়ে চার বছরের মেয়াদকালে সিলেট পৌরসভাকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার, উন্নয়ন ও জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তাঁর সময়কালে সম্পন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, সিলেট পৌরসভার দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ, প্রথম বারের মতো এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, অরক্ষিত ও অবহেলিত হযরত শাহজালাল (রঃ)’র দরগাহ শরীফ সংলগ্ন গোরস্থান ও হযরত মানিকপীর (রঃ)’র মাজার শরীফ সংলগ্ন গোরস্থান দুটির প্রাচীর বেষ্টিতকরণ, শেখঘাট হযরত শাহজালাল (রঃ) ঘাট নির্মাণ (কসবে সিলেটের যে স্থানের মাটি হযরত শাহজালাল (রঃ)’র কদম মোবারক স্পর্শ করেছিল)। শেখঘাট মসজিদ সংলগ্ন স্থানে জানাজার নামাজ পড়ার জন্যে ঘাটের উপর প্রশস্ত জায়গা রাখা এবং ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহকে আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ঈদগাহ সংলগ্ন পয়েন্টে গোলচত্বর নির্মাণ, কাষ্টঘরে দ্বিতল সুইপার কলোনী নির্মাণ, আর্তমানবতার কল্যাণে পৌর বিনোদিনী দাতব্য চিকিৎসালয়ে ডায়াবেটিক ক্লিনিক চালু, বন্দর বাজার ও জিন্দাবাজারে দুটি সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, পৌর ভবনে আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের নগর টিকেট বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, সার্কিট হাউসের সন্নিকটে ও হকার মার্কেটে দুটি শৌচাগার নির্মাণ তাঁর সময়ের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম।

১৯৮৯ সালে সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত হন।

Leave a Reply