প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত, শিল্প ও বাণিজ্য বান্ধব : আসাদ উদ্দিন

সিলেট বিভাগ

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশঃ সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে একটি বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বান্ধব বাজেট মহান জাতীয় সংসদে পেশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি-কে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

এছাড়াও পরিকল্পনামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, সরকারের সকল মন্ত্রীসহ বাজেটের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকেও সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় চেম্বার প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম বাজেট যা সিলেট ও দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, এ বছর বাজেটে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১৮.১ শতাংশ। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারায় যা অত্যন্ত বাস্তসম্মত ও যৌক্তিক।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানবসম্পদ খাতে ২৭.৪ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে ২১.৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৩.৮ শতাংশ, যোগাযোগ খাতে ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১১.৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশের মানবসম্পদ ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। তিনি আরো বলেন, বাজেটে আয়ের উৎস্য বিবরণীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আয় ৬২.২% ধরা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকে আয় বৃদ্ধি হলে বিদেশী ঋণের উপর চাপ কমবে।

এবারের বাজেটে দেশের জনগণের ওপর নতুন কোন করচাপ তৈরি করা হবে না। এবারের বাজেটে করের আওতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে করহার না বাড়িয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ করা যায়। এটি অত্যন্ত প্রসংশনীয় উদ্যোগ। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নতুন ভ্যাট আইন-২০১২ সহজীকরণের জন্য প্রস্তাব জানাচ্ছি। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মুসক নেটের বাইরে রাখার জন্য বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতির প্রস্তাবটি ব্যবসায়ীমহলের জন্য একটি অধিকতর যুগোপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বলে আমি মনে করি।

শিক্ষিত বেকারদের জন্য স্ট্যার্ট আপ ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরী করা হবে যা নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসি বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান ও প্রবাসীদের জন্য বীমা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো যে উদ্যোগ তা প্রসংশনীয় উদ্যোগ। শিক্ষা ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করায় দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে। কারণ শিক্ষা খাত যেমন দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি, তেমনি কৃষি খাতও দেশের সমৃদ্ধির মূল হাতিয়ার। তাছাড়া দেশের সকল সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে আশা করি সিলেটের পর্যটন শিল্প আগামী বাজেটে এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা রাখি। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দশ বছরের জন্য বিভিন্ন হারে কর অব্যাহতি বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব বাজেটের বহি:প্রকাশ।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে প্রণোদনা দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আরও দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আগামী অর্থবছরে রপ্তানি ভর্তুকি ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে এবং রপ্তানিতে বর্তমানে ২৬ শ্রেণিতে বিভিন্ন হারে সহায়তা দেওয়া হবে।

সর্বোপরী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট একটি উন্নয়নমুখী, সময়োপযোগী ও জনবান্ধব বাজেট। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই বাজেট দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলেও মনে করেন তিনি।

Leave a Reply