এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, বললেন রুমিন ফারহানা

রাজনীতি

জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক, উত্তাপ-উত্তেজনা অনুপস্থিত দীর্ঘদিন। ঠিক কবে এমন উত্তপ্ত হয়েছিল সংসদ তা খুঁজে বের করাই কঠিন। সংসদের সেই উত্তপ্ত চেহারাটা ফিরে এসেছিল তিন/চার মিনিটের জন্য। বিএনপির নবাগতা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার স্বাগত বক্তব্যের রেশ ধরেই উত্তপ্ত হয়েছিল সংসদ। তার দু’একটি কথা ছাড়া আর কোন কিছুই ঠিক শোনা যাচ্ছিলো না সংসদের গ্যালারি থেকে।

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কর্মদিবস ছিল মঙ্গলবার। জাতীয় সংসদের নির্ধারিত পর্বগুলো শেষে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দু’মিনিট বক্তব্যের সুযোগ দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এতে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হৈ চৈ হট্টগোল করেন। মাইক ছাড়াই নানাজনে নানাভাষায় প্রতিবাদ করেন। ফলে বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি। এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

এরই মধ্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বক্তব্য চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তার সময় শেষ হয়ে গেলেও তিনি মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখতে থাকেন। বিএনপির অন্য সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ তাকে আরো বেশি সময় দেয়ার আহ্বান জানালেও স্পিকার সময় বাড়াননি।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি, যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

এই পর্যন্ত বলার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলে বলেন, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন। এরপরও বিনা মাইকে বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন ফারহানা।

তাঁর বক্তব্য শেষে ফ্লোর নেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, উনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের এমপি হিসেবে নিজেও শপথ নিয়ে সংসদকে অবৈধ বলে ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, তার বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসংসদীয় কিছু পাওয়া যায় তাহলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

  •  
  •  

Leave a Reply