খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার অমানবিক আচরণ করছে : মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের আচরণ অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার (২৪ মে) সকালে বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে ঢাকায় ফেরার জরুরী ওই সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তাই সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

চিকিৎসা না হলে যে পরিণতি হতে পারে, খালেদা জিয়াকে সেদিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার প্রতি সরকারের আচরণ অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকার রাজনৈতিক কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন না দিয়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাবন্দি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ মির্জা ফখরুল।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সরকার এত দূর্বল কেন? রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে সবকিছুতে আইন-আদালত ব্যবহার করছে সরকার। যেসব মামলায় বেগম জিয়ার জামিন পাওয়ার কথা সরকার আদালতকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোতেও জামিন দিচ্ছে না।

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের উচিত ছিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানিয়ে বুলেটিন দেয়া। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এমন কিছু করেনি। তারা কি খালেদা জিয়াকে জেলখানায় মেরে ফেলতে চাচ্ছে? আমি আবারও বলতে চাই- দেশনেত্রীর কোনও ক্ষতি হলে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে সরকার।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের নির্বাচন নিয়ে পরে বিবৃতি দেয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার কি বিনা চিকিৎসায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারেই ভিতরেই মেরে ফেলতে চায়? তাঁকে হত্যা করতে চায়? এতো দূর্বলতা কেনো সরকারের?

বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় জড়িত কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কি একথা বলেছি? আমরা বলেছি, রাজনৈতিক ও বর্তমান পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং আমাদের পার্টির স্বার্থে আমরা সংসদে গিয়েছি। আমরা বেগম জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়ের সাথে এটাকে কখনো জড়াই নাই। সুতরাং সংসদে যাওয়ার সাথে বেগম জিয়ার মুক্তির কোনও সম্পর্ক নাই।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, চিন্তার কি আছে? তাঁর যে প্রাপ্য, সেই জামিনটা আমরা চাই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেগম জিয়া তো মুক্তিযোদ্ধা বটেই। কারণ তার স্বামী স্বাধীনতা ঘোষণা করার অপরাধে যদি তাঁকে জেলে থাকতে হয়, তাহলে কি তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন?

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা জন্য তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বারবার সরকারকে বলেছি, বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমএমএমইউ) হাসপাতালে আসার আগে আমরা বলেছিলাম, বেগম জিয়া আসতে চাচ্ছেন না। তিনি বাইরে থেকে চিকিৎসা করতে চান। কিন্তু সেখানে তাকে চিকিৎসা করতে দেওয়া হয়নি। কেনো দিচ্ছে না? যে মামলা তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় তো তিনি জামিনযোগ্য। তিনি জামিন পেতে পারেন। সবাই পেয়েছে। কিন্তু আজকে বেগম জিয়ার ব্যাপারে কেনো এই সিদ্ধান্ত!

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে সরকার আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা আইনের সাথে সম্পূর্ণ বিরোধী। আর বেগম জিয়ার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অমানবিক, মানবাধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ডায়াবেটিসে ভুগচ্ছেন। যেটাকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বলা হয়। আর ইনস্যুলিন নেয়ার পরও তাঁর ডায়াবেটিস কমছে না। এই অবস্থায় একজন বয়স্ক মহিলার কারাগারে কী পরিণতি হতে পারে, তা আমরা সবাই জানি। আর আগে তিনি হাতের বাম কাঁধের ব্যথায় ভুগছিলেন। এখন সেটা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়েছে গেছে। যার ফলে তার হাতগুলো তিনি নাড়াতে পারছেন না। আর পা সোজা থাকলে তিনি বাঁকা করতে পারছেন না। তিনি কোন সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। এছাড়া তার পেশীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে বা অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য বেগম জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও এম এ কাইয়ূম প্রমখু।

  •  
  •  

Leave a Reply