বেপরোয়া ওসি আক্তার : পুলিশ হেডকোয়াটার্সের কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ

সিলেট বিভাগ

সিলেট সংবাদ ডেস্ক : সিলেটী রাজনীতিক আত্মীয়দের শেল্টারে বেপরোয়া মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ওসি আক্তার হোসেন। সেই খুঁটির জোরে পুলিশী নীতি আদর্শকে এড়িয়ে চড়ি ঘুরাচ্ছেন ওসির চেয়ার। ঘুরে ফিরে ফিরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের থানা গুলোতেই বিচরন করেছেন তিনি। আদর্শগত সর্ম্পৃক্ততা বিএনপি রাজনীতিতে থাকলেও ভরা সুখে আ‘লীগ সরকারের আমলেও তিনি। নিজকে জাহির করেন সিলেটের এক প্রভাবশালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আত্মীয় হিসেবে। সেকারনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও চোখ তার ব্যাপারে রহস্যজনক নির্লিপ্ত। রাজনীতিক আত্মীয়দের প্রভাবে নিজ পুলিশ বিভাগেই আলাদা এক ক্ষমতাবান তিনি। সেবা-পুলিশের ধর্ম। কিন্তু তার কর্ম পুলিশী নীতি আদর্শদের সাথে প্রশ্নবিদ্ধ। তার ব্যাপারে মানুষের পরিচয়, অমুক নেতার খাস লোক তিনি (ওসি আক্তার)। দীর্ঘদিন থেকে মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থান করার কারনে সুবিধাভোগী নেটওয়ার্ক নির্ভর হয়ে পড়েছেন ওসি আক্তার। সেই নেটওয়ার্ক কৌশলে অস্ত্র হিসেবে শক্তি প্রয়োগে ব্যবহার করছে ওসি আক্তারকে । ফলশ্রুতিতে নিজের চেয়ার রক্ষায়, শক্তের ভক্ত হয়ে পুলিশী চরিত্র হারিয়ে সুবিধাভোগদের সেবাদাসে পরিণত হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন করে অপসারনের দাবীতে সোচ্চার এখন স্থানীয় খাদিমপাড়াবাসী। একই সাথে এক আমেরিকা প্রবাসী পুলিশ কমপ্লেইন সেলে ভূমি দখলবাজিতে সহযোগিতা ঘটনায় অভিযোগ করেছেন ওসি আক্তারের বিরুদ্ধে। এছাড় শাহপরান (রহ.) থানায় রহস্যজনকভাবে ভূয়া অভিযোগে তদন্ত ছাড়াই মামলার পাহাড় হয়ে আছে। মামলাগুলো তদন্তও হয়েছে মনগড়া এমন প্রমানাধি রয়েছে ভোক্তভোগীদের হাতে। এছাড়া আ‘লীগের স্থানীয় গ্রুপিং রাজনীতিতে পক্ষালম্বনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বির্তকিত পুলিশিংয়ে ভূয়া মামলায় হয়রানীর শিকার হয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেহিসাব নেতাকর্মীদের বিষিয়ে উঠেছে স্বাভাবিক জীবন। ওসি আক্তার এতে করে হারিয়েছেন কর্মস্থলে গ্রহনযোগ্য-সার্বজনীন ইমেজ। তিনি আইনের প্রতিনিধি হয়ে, ব্যবহার হচ্ছেন স্থাণীয় গুঠিকয়েক সুবিধাভোগী বির্তকিত মানুষের ক্রীড়ানক হিসেবে। তার কাঁধে বন্ধুক রেখে রাজনীতিক সুবিধাভোগী মামলাবাজ মানুষগুলো দাপুট এখন এলাকায়। ওসি আক্তারকে কেন্দ্র করে বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়ছে কর্মস্থল এলাকার সাধারন মানুষ। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে প্রকাশ্যে। সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন সহ পুলিশের কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে ওসি আক্তারের বিরুদ্ধে। সোমবার মানববন্ধনে ওসি আক্তারকে প্রত্যাহারের এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন খাদিমপাড়া ইউনিয়ন আ‘লীগ ও ভোক্তভোগী এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ওসি আক্তারের নানা অনিয়ম, মিথ্যা অভিযোগের মামলায় হয়রানীমুলক গ্রেফতারের শিকার খাদিমপাড়া ইউণিয়ন আ‘লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদপুর গ্রামের আজমল আলী নেপুর মিয়ার স্ত্রী হারুন বেগম। অভিযোগ করে হারুন বেগম বলেন, ওসি আক্তারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের পাহাড়। তার কারনে মামলার বিপর্যস্থ শাহপরানবাসী। ভূমিখেকো চক্রের পৃষ্টপোষক হয়ে, বেশিরভাগই ভূমি বিরোধের জের ধরে এ মামলা দায়ের করার সুযোগ দেন তিনি। স্থানীয় একটি কুচক্রি মহলের সাথে ঘনিষ্ট ওসি আক্তার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসর আহমদ। সম্প্রতি গ্রামের রাসনা বেগমের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় হারুন বেগমের স্বামী আ‘লীগ নেতা নেপুর মিয়ার। সেই বিরোধের জের ধরে রাসনা বেগমের ভূয়া অভিযোগে একটি মামলা রেকর্ড করেন ওসি আক্তার। ১৮ মে দায়েরকৃত এ মামলায় নেপুর মিয়া সহ ৫জনকে আসামী করা হয় অতি গোপনে। কিন্তু কোন রকম তদন্ত ব্যতি রেখেই নেপুর মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসর আহমদের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ড. মোমেনে সর্ম্পক ঘনিষ্ট। সেকারনে আফসরের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে ওসি আক্তার আ‘লীগ নেতা নেপুর মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করেন বলে অভিযোগ করেন হারুন বেগম। কথিত বাদী রাসনা বেগমের সাথেও রয়েছে চেয়ারম্যান আফসরের প্রশ্নবিদ্ধ সর্ম্পক। প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট ওসি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে শাহপরান থানায় সুশাসন প্রতিষ্টায় কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহরেন দাবী করেন হারুন বেগম।

ওসি আক্তারের বিরুদ্ধে মানবন্ধনে অপসারনের আল্টিমেটাম
ওসি আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে সোমবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় খাদিমপাড়াবাসী। শাহপরান গেইটে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল আলী নেপুর’র উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ওসি আক্তার হোসেনকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বেলা ২টায়। মানবন্ধনে ওসি আক্তার হোসেনের প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন আ‘ লীগ ও এলাকাবাসী। এসময় তারা রাস্তা অবরোধও করেন শাহপরান গেইটে। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন- ওসি আক্তার হোসেন অর্থের লোভে শাহপরান থানায় একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে শাহপরান থানায় মিথ্যা দিয়ে নাগরিকদের হয়রানী করছে। এতে করে গোটা শাহপরান এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এবার ওসি আক্তারের রোষানলে পড়ে এবার হাজতবাস করছেন খাদিমপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল আলী নেপুর। এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে খাদিমপাড়া এলাকায়। বক্তারা ঘোষিত সময়ের মধ্যে ওসি আক্তারকে অপসারন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারীও জানান তারা।

ভূমিদখলে সহযোগিতা ঘটনায় আক্তারের বিরুদ্ধে এক আমেরিকা প্রবাসীর অভিযোগ
এক আমেরিকা প্রবাসী পুলিশ কমপ্লেইন সেন্টারে ১৮ এপ্রিল ই-মেইলে এক অভিযোগ দায়ের করেছেন ওসি আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানান, ব্যাংকে বন্ধককৃত একটি জমি ভূমিখেকো চক্র ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে দখল করার পাঁয়তারা করছে ওসি আক্তারের বৈআইনী সহযোগিতায়। ভূমি খেকো চক্রের পক্ষ হয়ে থানায় ডেকে নিয়ে আমেরিকা প্রবাসীর প্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে বাঁশ ডুকিয়ে দিবেন বলে হুমকি প্রদান করেন ওসি আক্তার। এছাড়া তার পক্ষে আরো কঠিনভাবে হুমকি দেন শাহজালাল তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুহেল রানা। প্রবাসী জমির কেয়ারটেকার সাগরকে ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, আমেরিকা-টামেরিকা বারয়ে-ই যাবে নেই।
আমেরিকার মিশিগানের বাসিন্দা ফয়সাল চৌধুরী ই-মেইলে পুলিশ হেডকোয়াটার্স এর কমপ্লেইন সেলে অভিযোগে ওসি আক্তারের সহযোগিতায় জমি দখলের বৈআইনী তৎপরতা উল্লেখ করে বলেন, মেন্দিবাগের ১২ শতক ভূমি ২০১৪ সালের মার্চ মাসে (রেজিষ্ট্রিরী দলিল নং ৪৭৭৩) ফার্স্ট সিকিরিটি ইসলামী ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে লোন তোলেন তিনি। এখনও তার লোন চলমান। তার এই জমিটি ব্যাংকে জমা থাকায়, দলিল দলিল অবমুক্ত হয়নি তার। তার অবর্তমানে এই জমিটির উপর চোখ পড়ে ভূমিখেকো একটি চক্রের। সেই চক্রের অন্যতম হাছিব নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি মৌলভীবাজারে। ওসি আক্তারের বাড়িও মৌলভীবাজার। তাই মৌলভীবাজারী সিন্ডিকেট দিয়ে দখলবাজী সহ অর্থধান্ধ্যা করে মানুষকে হয়রানি করেছেন কৌশলে ওসি আক্তার। আমেরিকা প্রবাসী অভিযোগে জানান, ভূমিখেকো হাছিব জায়গা নিয়ে কোন সমস্যা করবে করবে যদি ্ওই প্রবাসী তাকে ১০ লাখ টাকা দেন। এই টাকা দিয়ে ওসি আক্তারকে ম্যানেজ করবেন, সেইসাথে জমি দখলের চেষ্টা করবে না হাছিব। এক পর্যায়ে ওসি প্রবাসীর প্রতিনিধিদের সালিশ বসানোর নামে থানায় ডেকে নেন। সেখানে প্রবাসীর প্রতিনিধিদের কোন বক্তব্য না শুনে একতরফা শাসিয়ে বলেন, হাছিবের দাবী মেনে নিতে। অন্যথায় মিথ্যা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করবেন তিনি। প্রবাসী বলেন, আইনী ন্যায্য সহযোগিতার বদলে বিচারিক এজলাস বসিয়ে ওসির আইন বিরোধী কর্মে চরম ভীতিতে রয়েছেন তিনি। প্রবাসী উল্লেখ করেন, একটি জমি ব্যাংকে দালিলিকভাবে বন্ধক থাকা অবস্থায়, কোনভাবে ওই জমি আইনী দলিল করার বিধান নেই। কেউ করলে তা ভূয়া দলিল হিসেবে পরিগণিত হবে। কিন্তু ভূমিখেকো চক্রের বৈআইনী দলিল সৃজনের বিষয়টি ওসির নজরে দেওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি তিনি। তা না করে ওই চক্রকে সহযোগিতা করে প্রবাসীকে হয়রানী করে নিজের আর্থিক ফায়দা লাভে মরিয়া হয়ে উঠছেন তিনি। অভিযোগকারী প্রবাসীর বাড়ি শাহপরান থানার অর্ন্তগত মেজরটিলা এলাকায়।

তথ্য সূত্র : দৈনিক ইনকিলাব, লিংক সংযুক্ত

Leave a Reply