দেশে এখন ভয়ঙ্কর একটি শাসন চলছে : দুদু

রাজনীতি

ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক নিজ হাতে নিজের ক্ষেতে ফলানো সোনার ধানে আগুন দিলেও ‘সরকার নির্বিকার’ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়ঙ্কর একটি শাসন চলছে। যে শাসনে এদেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ ছাত্র-যুব-নারী কেউ নিরাপদ নয়। কারোর পক্ষেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আজ রবিবার (১৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে কৃষকের ধানসহ সকল প্রকার ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় শামসুজ্জামান দুদু কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে, হাট উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান কৃষিমন্ত্রীর বাড়ি টাঙ্গাইল। সেই টাঙ্গাইলের কৃষকরা নিজের ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী কিছু করেন নাই, প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেন নাই। কিছু না করার কারণ হলো- এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না। এই সরকার অবৈধ বলেই জনগণের কাছে কৃষকদের কাছে কোনও কৈফিয়ত তারা দিতে চায় না।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত এক শতাব্দিতে লক্ষ্য করবেন, কৃষক তার উৎপাদিত ধানে আগুন দিয়েছে এরকম ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এই জুলুমবাজ সরকারের আমলে সেটিই ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর! কৃষক তার ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে নিজের ক্ষেতে নিজ হাতে আগুন দিচ্ছে। অথচ বাকশালী সরকার সম্পূর্ণ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রের সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের জন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। লক্ষ লক্ষ দেশপ্রেমিক স্বাধীনতার জন্য শহীদ হয়েছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মা-বোন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে এই দেশে লুটপাট দুর্নীতি একনায়কতন্ত্র স্বৈরতন্ত্র টিকবে না এটাই বুঝিয়ে দিতে হবে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে দুদু আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশে লুটপাট করবে, শেয়ারবাজার ব্যাংক লুটপাট করবে, কৃষকরা তার ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে না- এটাই এখন বাস্তবতা। যেকোনও কৃষি উপকরণ কিনতে গেলে তিনগুণ দাম দিয়ে কিনতে হবে, এভাবে তো চলতে পারে না। এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য দেবে, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। অথচ এখন বাস্তবে আমরা কী দেখছি? শিক্ষিত যুবকরা বেকার হয়ে আছে, কৃষক তার সোনার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না, ১০ টাকা কেজির চাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে কিনে খেতে হচ্ছে।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, কৃষকের জন্য সবচাইতে বেশি কাজ করেছেন শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া তথা বিএনপি সরকার। এজন্যই বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে সরকার। যাতে তিনি কৃষকদের পক্ষে কথা না বলতে পারেন এবং আন্দোলন করতে না পারেন।

এসময় শামসুজ্জামান দুদু কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে, হাট উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ মে সারা দেশের সকল ইউনিয়ন হাটে ঘাটে মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ; ২৫ মে সকল উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ২৬ মে সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলায় জেলা প্রশাসক বরাবর কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।

কুষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জামাল উদ্দিন খান মিলন, সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মাইনুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply