স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও সীমান্ত পিলারে পাকিস্তান

জাতীয়

স্বাধীনতার প্রায় ৪৮ বছর পরও দেশের সীমানা পিলারে ‘পাক’ (পিএকে) খোদাই করা চিহ্ন রয়ে গেছে। সীমান্ত পিলার থেকে পাকিস্তান নামের ক্ষত চিহ্ন মুছে ফেলার সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু সেই উদ্যোগে এক হাজার ৭৪৮টি পিলার থেকে ‘পাক’ চিহ্ন মুছে বাংলাদেশ লিখতে পেরেছে সরকার। আরও চার হাজার ২৭৬টি পিলারে এখনও ইংরেজিতে পাক অথবা পাকিস্তান লেখা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীমান্ত পিলারগুলোর একপাশে লেখা ‘বাংলা’, অন্যপাশে ইংরেজিতে ‘ইন্ডিয়া’। কিন্তু এই দুই সাব-পিলারের সংযোগ চিহ্নিতকারী লোহার ‘টি’ পিলারের প্রতিটির একপাশে ‘ইন্ডিয়া’ লেখা থাকলেও বাংলাদেশ অংশে এখনও শোভা পাচ্ছে পাকিস্তান বোঝাতে লেখা ‘পাক’।

শুধু এই ‘টি’ পিলারগুলো নয়; দুই দেশের সীমান্ত ধরে আরও কিছুদূর এগোতেই দেখা যাবে মূল পিলারের সাথে সাব-পিলারের বাংলাদেশ পাশে ঝুলছে পিতলের ওপর খোদাই করে ইংরেজিতে লেখা ‘পাক’। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা সাধারণ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন নাগরিকদের মধ্যে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে ,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ছয় বছর পর আবার নতুন করে সেই চার হাজার ২৭৬টি পিলারে ‘পাক’ এর পরিবর্তে বিডি অথবা বাংলাদেশ লিখতে উদ্যোগ নিয়েছে।

জন-নিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব আবু নাছের ভূঁঞা এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা চেয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে বিজিবি নিজস্ব অর্থায়নে স্বাধীন দেশের সীমানা পিলার পাক লেখার পরিবর্তে বিডি অথবা বাংলাদেশ লেখা প্রকল্প শুরু করে। এখনো সেই প্রকল্প চলমান।

কিন্তু এ প্রকল্পে অর্থ সংকট রয়েছে। এজন্য বিজিবির চলতি বাজেট থেকে বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর ও রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ব বিষয় বিবেচনায় বরাদ্দ হিসেবে চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অনুকূলে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ একান্ত প্রয়োজন।

এর দুই বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে সীমান্তে পিলার থেকে পাকিস্তান নামের ক্ষত চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য পতাকা বৈঠক হয়েছিল।

কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া সীমান্তের গোয়ালপাড়ায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিজিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার। বৈঠকে বিএসএফ’র চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের ৭৬ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিজয় ডেমরি।

Leave a Reply