টানা তিনদিনের ছুটিতে বেড়ানো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত সিলেট

সিলেট বিভাগ

নিজাম ইউ জায়গীরদার : তিন দিনের টানা সরকারী ছুটি থাকায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের পর্যটন স্পটস’মূহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটের প্রতিটি পর্যটন স্পটে ভিড় লেগেছে পর্যটকদের। প্রকৃতি কন্যা জাফলং, লালাখাল, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, পান্তুমাইয়ের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পার্কও হয়ে ওঠে লোকারণ্য। সিলেট নগরীর হোটেল-মোটেলে পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হোটেল-মোটেলে সব সিট বুকড হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটকই রুম পাননি বলে জানান।

বৃহস্পতিবার ভোরে সরেজমিনে হযরত শাহজালাল (রঃ) ও  হযরত শাহপরান (রঃ) মাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাজারের আশেপাশে গাড়ির সারি সারি লাইন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক গাড়ি পার্কিং করা হয়েছে নগরীর অন্যান্য পয়েন্টে। মাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটে প্রায় লক্ষাধিক লোক টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করতে এসেছেন। তারা জানান, মাজার এলাকার কোনও হোটেলেই পর্যটকদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। সবকটি হোটেলের সিটই কানায় কানায় পূর্ণ। হোটেলে সিট না পেয়ে অনেকে রাস্তার পাশে, দোকানের সামনে অথবা তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে বসে সময় কাটাচ্ছেন। এ কারণে হোটেলে স্থান না পাওয়া পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ভারতের মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি জাফলং, পান্তুমাই ঝর্ণা, বিছনাকান্দির স্বচ্ছ পানি আর সোয়াম ফরেস্ট খ্যাত রাতারগুল এক নজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। প্রকৃতির টানে অনেকেই ছুটে এসেছেন সিলেটে ছুটি কাটাতে। তাদের বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে পর্যটন স্পটগুলোতে সৃষ্টি হয় অন্যরকম আবহের।

শহরতলীর খাদিম চা-বাগানে কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা রাহুল জানান, “পাহাড়-টিলাঘেরা সিলেট যেন প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি। এবারই প্রথম সিলেটের সবুজ চা বাগানগুলো দেখতে এসেছি পরিবার পরিজন নিয়ে। সময় আর সুযোগের অভাবে এতদিন এখানে আসা হয়নি।” এরই মধ্যে তিনি পরিবার নিয়ে জাফলং থেকে ঘুরে এসেছেন। তবে, হোটেলে সিট পেতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

গাজিপুর থেকে  ৩৫ জনের একটি দল সিলেটে ঘুরতে এসেছে।  তারা সবাই কলেজ ছাত্র। কয়েকবার সিলেট দর্শনের পরিকল্পনা করেও হয়নি। তবে, এবারের সুযোগ হাতছাড়া করেননি তারা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মোনা-মুকুট দম্পতির ৫ বছরের বিবাহিত জীবনের দ্বিতীয় সিলেট ভ্রমণ এটি। আনন্দে উদ্বেলিত মোনা জানালেন, সিলেটের সৌন্দর্য যেন রংধনুর সাত রংয়ের মতো। পাশাপাশি এখানকার পাহাড়-টিলা সহজেই যে কাউকে আকর্ষণ করে। এ জন্য বারবার সিলেট আসতে ইচ্ছে করে।

সিলেটে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটকের অভিযোগ হোটেল-মোটেলে পর্যাপ্ত স্থান না থাকার অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করছেন মালিকরা।

ছবিঃ ফারহান জায়গীরদার

সিলেট নগরীর বঙ্গবীর ওসমানী শিশু পার্ক, কিন ব্রিজ, সেলফি ব্রিজ, এক্সেলসিয়র সিলেট, ড্রীম ল্যান্ড পার্ক, অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। ওসমানী শিশু উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিশুদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, সরকারী টানা তিনদিনের ছুটিতে অনেক পর্যটক সিলেটে এসেছেন। আগামীকাল শুক্রবার উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাজারেও ভীড় করেছেন ভক্তবৃন্দরা। সিলেটে পর্যটকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসএমপি’র উদ্যোগে স্পট কেন্দ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও  একযোগে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।

যেকোন প্রয়োজনে পর্যটকদের ৯৯৯ নাম্বারে অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা।

Leave a Reply