পুলিশ কমিশনারকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আটক সিবিআই কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক

ভারতের কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করতে এ বার সরাসরি তার বাড়িতে হানা দিয়েছে সিবিআই। পরে অনুমতি ছাড়া কমিশনারের বাড়িতে হানা দেওয়ায় সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

রোবববার সন্ধ্যায় একের পর এক এমনই রুদ্ধশ্বাস ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছেন কলকাতাবাসী।

এদিন সন্ধ্যায় সিবিআই কর্মকর্তারা প্রথমে আসেন পার্ক স্ট্রিট থানাতে। সেখানে গিযে তারা একটি চিঠি বের করেন। একইসঙ্গে তারা ঘটনার ভিডিও করতে যান। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, তাদের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তা মেনে সিবিআই কর্মকর্তারা আর ভিডিও করেননি। কিন্তু তাদের সেই চিঠি গ্রহণ করেনি পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। এরপরেই তারা চলে আসেন শেক্সপীয়র সরণি থানায়। কিন্তু সেই চিঠি গ্রহণ করতে চায়নি শেক্সপীয়র সরণি থানার পুলিশও। এ সময় শেক্সপীয়র সরণি থানায় পৌঁছন ৩ ডেপুটি পুলিশ কমিশনার। অন্যদিকে সিবিআইয়ের আরেকটি দল যায় লাউডন স্ট্রিটে পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে।

সিবিআই কর্তারা জানান, এর আগে ৪ বার সিবিআইয়ের তরফ থেকে রাজীব কুমারকে নোটিশ পাঠিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি আসেননি, উত্তরও দেননি।

সিবিআইয়ের দাবি, সারদা তদন্তের শুরুতে রাজ্য সরকারের তরফে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার প্রধান ছিলেন রাজীব কুমার। সেই দলের হাতে পড়ার পর বহু নথিপত্র তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সময় বিভিন্ন জিনিসপত্রের সঙ্গে একটি লাল ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করা হয়। বহু নথিপত্র, পেন-ড্রাইভের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু হস্তান্তর করার সময় সেই সংক্রান্ত কিছুই দেওয়া হয়নি।

রোববার বিকেলেই লালবাজারে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) জাভেদ শামিম বলেন, গতকাল (শনিবার) থেকে খবর করা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশ কমিশনার পলাতক, কলকাতা পুলিশ কমিশনার গ্রেফতার হতে পারেন। এই সমস্ত সংবাদ যে সমস্ত সংবাদ মাধ্যম পরিবেশন করেছে, দের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ কলকাতা পুলিশ একটা প্রতিষ্ঠান এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। তাই মানহানির মামলা করা হবে। আগামী দিনে যাচাই না করে যেন এরকম খবর না করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১৬০ নম্বর ধারায় সিবিআইয়ের তরফে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে যে নোটিশ পাঠানো হয়, সেই নোটিশগুলি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট সেগুলি হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেন। হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর ওই সমস্ত নোটিশগুলির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন হাইকোর্ট। তা আগামী ১৩ ফেব্রুযারি পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

এই সাংবাদিক সম্মেলনের ঘন্টাখানেক পরেই সিবিআইয়ের একটি তদন্তকারী দল লাউডন স্ট্রিটে এসে পৌঁছায়। আগে থেকেই খবর পেয়ে শেক্সপীযর সরণি থানার পুলিশ এবং ডিসি সাউথ মিরাজ খালিদ পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। সিবিআই কর্মকর্তাদের তারা বলেন, এভাবে আগাম কোনও খবর না দিয়ে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তার বাড়িতে হানা দেওয়া যায় না। থানায় গিযে এই বিষয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু সিবিআই কর্মকর্তারা তা মানতে রাজি হননি। তারা ঘটনাস্থল থেকে সরতে চাননি।

এরপরে ঘটনা মোড় নেয় অন্য নাটকীয় দিকে। জোর করে সিবিআই কর্মকর্তাদের গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ জোর করে টেনেহিঁচড়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের গাড়িতে তুলে শেক্সপীয়র সরণি থানায় নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে কলকাতার রাজপথে পুলিশ-সিবিআই ধস্তাধস্তি দেখে চমকে যান শহরবাসী।

এরপরই পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছান এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা।

পরে সিবিআই প্রধান এম নাগেশ্বর রাও সাংবাদিকদের বলেন, সারদা মামলার তদন্তে কলকাতা পুলিশের অসহযোগিতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয়কে চিঠি দেওয়া হবে।

তার অভিযোগ, মামলার প্রমাণ লোপাট করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই আমরা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত করছি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করে। যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজীব কুমার। তিনিই বর্তমানে কলকাতার পুলিশ কমিশনার।

নাগেশ্বর রাও-এর অভিযোগ, সব নথি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়েছে। চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অনেক প্রমাণ লোপাট করে ফেলা হয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে। তদন্তে কলকাতা পুলিশ কোনও সহযোগিতা করছে না।

  •  
  •  

Leave a Reply