চিটাগংয়ের জয়ে শেষ হলো বিপিএলের সিলেট পর্ব

খেলার খবর

খুলনা টাইটান্স বনাম চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসরের সিলেট পর্ব। শেষ ম্যাচে চিটাগং ব্যাটসম্যানরা দেখালেন ব্যাটিং ঝলক। মুশফিক-ইয়াসিরের হাফ সেঞ্চুরি আর দাসুন শানাকার ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ রানের পাহাড় গড়ল চিটাগং ভাইকিংস। চলতি বিপিএলে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। এবং অবশ্যই প্রথম দুইশ ছাড়ানো স্কোর। জবাবে ২১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটি ও ডেভিড উইসির ৪০ রানের উপর ভর করে ৮ উইকেটে ১৮৮ রানের বেশী করতে পারেনি খুলনা। ফলে ম্যাচটি তারা ২৬ রানে ব্যবধানে হারে।৫ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে গেল চিটাগং। আর ৭ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষে খুলনা।

বড় লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা। পল স্টারলিং (০) ও আল আমিন (৫) আবু জায়েদ রাহীর টানা দুই ওভারে ফিরে যান। ১২ রানে খালেদ আহমেদের কাছে উইকেট হারান জুনায়েদ সিদ্দিক।

মাত্র ১৮ রানে ৩ উইকেট হারালেও খুলনাকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন ব্রেন্ডন টেলর ও মাহমুদউল্লাহ। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু দশম ওভারে নাঈম হাসানের কাছে বোল্ড হন টেলর, ১৬ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ২৮ রান করেন জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যান।
এই দারুণ জুটি ভাঙলেও মাহমুদউল্লাহ ২৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে ফিফটি হাঁকান। কিন্তু পরের বলেই ক্যামেরন ডেলপোর্ট বোল্ড করেন তাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি পেসার তার পরের ওভারে আরিফুল হককে মাঠছাড়া করেন ১১ রানে।

১০৯ রানে ৬ উইকেট হারলেও হাল ছাড়েনি খুলনা। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন ডেভিড উইজ। ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা। ভালো জবাব দিচ্ছিলেন উইজ, কিন্তু ২০ বলে ২ চার ও ৪ ছয়ে মোহাম্মদ শাহজাদকে ক্যাচ দেন তিনি। আফগান উইকেটরক্ষক রিভিউ নিলে বিদায় নিতে হয় তাকে।

শেষ ওভারে খুলনার লক্ষ্য ছিল ৪০ রান, করে মাত্র ১৩ রান। শরীফুল ইসলাম প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে তৃতীয় বলে আউট হন। তাইজুল ইসলাম ২১ বলে ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। লাসিথ মালিঙ্গা খেলছিলেন ৫ রানে।

রাহী সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন চিটাগংয়ের পক্ষে। দুটি করে পান ডেলপোর্ট ও খালেদ আহমেদ।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় চিটাগং ভাইকিংস। ডেলপোর্টকে (১৩) ওয়াইজের তালুবন্দি করেন শরিফুল। ১৭ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৩৩ করা অপর ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তাইজুল। এরপর ইয়াসির আলীকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন অধিনায়ক মুশফিক। ওয়াইজের বলে ৩৬ বলে ৫৪ করা ইয়াসির আলী উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে ভাঙে ৮২ রানের জুটি।

১৭তম ওভারে লঙ্কান গতিদানব মালিঙ্গাকে পরপর তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মি. ডিপেন্ডেবলের ৩৩ বলে ৮ চার ১ ছক্কায় গড়া ৫২ রানের ইনিংসটি থামে ওয়াইজের বলে শরিফুলের তালুবন্দি হয়ে। শেষদিকে ধামাকা দেখালেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান দাসুন শানাকা। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন নজিবুল্লাহ জারদান। শুভাশীষের শেষ ওভারে দুজন নিলেন ২৩ রান। ১৭ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪২* রানের ঝড় তুললেন শানাকা। আর জারদান অপরাজিত রইলেন ৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৬* রানে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ রানের পাহাড় গড়ে চিটাগং ভাইকিংস।

আজ দিনের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচেই বিপিএল অভিষেক হয়ে গেল প্রোটিয়া হার্ডহিটার এবিডি ভিলিয়ার্সের।

  •  
  •  

Leave a Reply