সিলেটের নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তর হচ্ছে আজ

সিলেট বিভাগ

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শহরতলীর বাদাঘাটে নির্মিত নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুক্রবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এ কারাগার উদ্বোধন করেন।

কারা সূত্র জানায়, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রিজন ভ্যানে করে পর্যায়ক্রমে কয়েক দফায় দুই হাজারের বেশি বন্দিকে স্থানান্তর করা হবে। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ২৩০ বছরের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার পরিত্যক্ত হবে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু সায়েম জানান, বর্তমানে কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে ৫০০ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং ১ হাজার ৮০০ জন হাজতি রয়েছেন। তাদের পর্যায়ক্রমে নতুন কারাগারে নেওয়া হবে।

বন্দি স্থানান্তর উপলক্ষে নতুন কারাগারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) মো. জেদান আল মুসা।

বন্দিদের সরানোর পুরো সময় পুরাতন কারাগার থেকে বাদাঘাটে নতুন কারাগার পর্যন্ত সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। তবে স্থানান্তরের সময় সড়কে সাধারণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে না বলে জানান তিনি।

বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের লক্ষ্যে গত রোববার (৬ জানুয়ারি) এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে নগরীর ধোপাদিঘীরপারস্থ পুরাতন কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তর শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

এরই মাঝে পুরাতন কারাগারের প্রধান ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

উদ্বোধনের পর থেকে নবনির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে অফিস করা শুরু করেন। তবে খুব গোপনীয়তার সাথে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দী স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছিল।

১৭৮৯ সালে নগরীর ধোপাদীঘির পাড়ে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জায়গায় তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের প্রতিনিধি সিলেটের কালেক্টর জন উইলসন নির্মাণ করেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। এতে নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল এক লাখ রুপি।

২৩০ বছর পর সেই কারাগার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নগরীর বাইরে শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায়। নতুন কারাগারের বন্দির ধারণ ক্ষমতাও প্রায় আড়াই হাজার। রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাও।

কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেন। এটি ছিল সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অগ্রাধিকার প্রকল্প।

Leave a Reply