সিলেটে ৫৪ পাসপোর্টসহ দুই ‘মানবপাচারকারী’ আটক

সিলেট বিভাগ

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে একটি ট্রাভেলসে অভিযান চালিয়ে ৫৪টি পাসপোর্টসহ দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার বিকেলে তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্নভাবে ইউরোপ যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘মানবপাচারের’ কাজ করতো। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সেখান থেকে দুজনকে আটক করলেও মালিককে পাওয়া যায়নি।

তবে তল্লাশী চালিয়ে ৫৪টি বাংলাদেশী পাসপোর্ট ছাড়াও ২টি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ, ১২ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, নগদ ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিদেশী সিমকার্ড, কিছুসংখ্যক বিদেশী মুদ্রাসহ অফিসিয়াল কাগজপত্রাদিও জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে- মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার পানিপাড়া গ্রামের সাজিদুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (২৭) ও জেলার গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামের জলিল আহমদের ছেলে জয়নাল আবেদীন তোফায়েল (২৭)। ওই ট্রাভেলসের মালিক আব্দুল গণি হাছান (৪৪) পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব-০৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘আটককৃতরা র‌্যাবকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ওই ট্রাভেলসের মালিক আব্দুল গণি হাছান বিভিন্ন মাধ্যমে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুকদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তার আরেক সহযোগি এম শফিকুল ইসলামের কাছে পাঠায়। শফিক এসব পাসপোর্ট ব্যবহার করে কৌশলে ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্ট তৈরি করে এবং ভিসা পাওয়ার পর নগরীর সুরমা টাওয়ারের সোমা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা করে।’

তারা আরও জানায়, ‘টিকেট প্রাপ্তির পর তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরেস অবৈধভাবে বিদেশগামীদেরকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক ঝামেলা এড়ানোর লক্ষে বিভিন্ন ধরণের কৌশল শিক্ষা দেয়।

তারা আরো জানায়, ‘০৩ মাসের ভ্রমণ ভিসা প্রাপ্তির পর অন্যান্য নথিপত্রসহ আলাদা আলাদা খামে প্রবেশ করিয়ে বিদেশগামীদের ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে পরবর্তীতে গ্রীস ও আজারবাইজানে প্রেরণ করে। মানব পাচারকারী দলের সদস্যরা বিদেশগামীদেরকে গ্রীসে প্রেরণের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও আজারবাইজানকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্টে মাধ্যমে তুরস্ক ও আজারবাইজানে ভ্রমণ সহজ হওয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা অবৈধ ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করে।’

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো স্বীকার করে যে, পাচারকৃত বাংলাদেশী বিদেশগামীরা তুরস্কে পৌঁছানোর পর দালাল চক্রের তুরস্কের এজেন্ট পলাতক অভিযুক্ত আবদুল বাসেত (৪০) তুরস্কের এয়ারপোর্ট থেকে তাদের রিসিভ করে পূর্বে নির্ধারিত হোটেলে নিয়ে যায় এবং পাচারকৃত বাংলাদেশী বিদেশগামীরা আজারবাইজানে পৌঁছানোর পর দালাল চক্রের আজারবাইজানের এজেন্ট পলাতক মিলন মিয়া (৩৩) আজারবাইজানের এয়ারপোর্ট থেকে তাদের রিসিভ করে পূর্বে নির্ধারিত হোটেলে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সড়ক পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধ ভাবে গ্রীসসহ ইউরোপিয় বিভিন্ন দেশে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে। এভাবে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধ্য মানব পাচার সংগঠিত করে থাকে।’

গ্রেফতারকৃত মানব পাচাকারীদেরকে এসএমপির কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply