ক্ষমতায় থেকে যা কিছু করে সরকার আর পার পাবে না, তাদের দিন শেষ : ড. কামাল

রাজনীতি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ক্ষমতায় থেকে সরকার যা কিছু করবে আর জনগণ তা মেনে নেবে— এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। সরকার আর পার পাবে না, তাদের দিন শেষ হয়ে গেছে।

শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার যতই ছলচাতুরি করুক এবং প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টা করুক না কেন— এবার নির্বাচন বয়কট করা হবে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

তিনি আরো বলেন, ‘দেখুন, দ্রুত আমরা নির্বাচন চাই। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি একদমই সবাইকে বলব, হাত জোড় করে, যে বয়কট-টয়কট একদম আমরা করব না। একবার করে আমাদের যে খেসারত দিতে হয়েছে। এটা আবার যেন কোনোদিনই না দিতে হয়। ওরা যত রকমের দশ নম্বরি করে আমরা ভোট দেব, আমরা হাজারে হাজারে গিয়ে ভোট দেব। আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব।’

এ সময় ফের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন ড. কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে এবং নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান বক্তারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার চেষ্টা করছে আপনাদের বারবার উসকানি দিয়ে আবার ভিন্ন খাতে যাওয়ার জন্য এবং তারা যেটা চায় বিএনপিকে সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দিয়ে, বিএনপিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তারা বিএনপিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিএনপিকে দূরে সরিয়ে রাখবে। শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যেন আমাদের দাবিগুলো আদায় করি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ক্ষমতা নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন করছে। ওইখানেই নিহিত আছে গণতন্ত্রের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের যদি কোনো স্বাধীনতা না থাকে তাহলে কোথাও কোনো স্বাধীনতা থাকবে না।

ঐক্যফ্রন্টের এ মুখপাত্র বলেন, সরকার ইচ্ছেমতো বিচার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। আমি বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য আপনাদের আন্দোলন করার জন্য আহ্বান জানাব। ওইখানেই নিহিত আছে গণতন্ত্রের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের যদি কোনো স্বাধীনতা না থাকে তাহলে কোথাও কোনো স্বাধীনতা থাকবে না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এই নির্বাচনে যদি গণতন্ত্রকামী মানুষ জয়ী হতে না পারে চিরতরে বিচার ব্যবস্থা চলে যাবে একটা দলের হাতে। গণতন্ত্র চলে যাবে একটা দলের হাতে সেই কথাটি আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, এই মানুষটি সত্য কথা বলেছেন এবং তিনি রায়ও দিয়েছেন সত্যভাবে। সেজন্য তাঁকে এই সরকার দেশ থেকে জবরদস্তি বের করে দিয়েছে। তাঁকে দেশত্যাগ করতে বলেছে।

আইনজীবীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এত দুঃখ পেয়েছি আজকে, যে একবারের জন্য তো আপনারা কেউ নামটা (এস কে সিনহা) উচ্চারণ করলেন না। আমি মনে করি, আমাদের সবার তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো উচিত এবং তিনি যে সত্য কথাগুলো উচ্চারণ করে গেছেন সে কথাগুলো আমাদের বারবার করে উচ্চারণ করা উচিত।’

এর আগে সমাবেশে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটের (নির্বাচনে) মাঠে থাকার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নির্দেশনা চেয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হিসেবে আইনজীবীদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আইনজীবীদের মহাসমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এসব দাবি জানান। দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জেলা নেতাদের বক্তৃতা শুরু হয়।

বগুড়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, আজ এখানে কেন্দ্রীয় নেতারা আছেন। আমরা আপনাদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে যেতে চাই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার। তিনি বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্র-নির্যাতন হবে, তবু নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেব না। আমাদের শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে আমাদের বিজয় কেউ কেড়ে নিতে না পারে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা থেকে সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা আইনজীবী সমিতির (বারের) সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে বর্তমান আইনমন্ত্রীকে ধরাশায়ী করব ইনশা আল্লাহ।

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ও আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীন। এতে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশ নেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর, মীর নাসির, গিয়াস উদ্দিন, ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, তৈমূর আলম খন্দকার, সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কামরুল ইসলাম সজল, নাসরিন আক্তার প্রমুখ। এ ছাড়া সমাবেশে গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও বক্তব্য দেন।

Leave a Reply