সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

সিলেট বিভাগ

আগামি বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন সকাল ১০টায় সিলেটের জেলা প্রশাসন হলরুমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ কারাগারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গণভবনে কারাগারের উদ্বোধনের সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা জাবেদ সিরাজ।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বন্দির মানবেতর জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় সরকার। সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাটে ৩০ একর জমির উপর অত্যাধুনিক সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২শ’ ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অগ্রাধিকার এই প্রকল্প অবশেষে উদ্বোধন হচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে প্রায় ২শ’ ৩০ বছর আগে নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা জরাজীর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পাবে। কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। এরপর তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও চলতিমাস পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা শেষ হতে এখনো মাসখানেক লেগে যেতে পারে।

১৭৮৯ সালে সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল ধোপাদিঘীর পাড়ে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল সিলেট জেল। ১৯৯৭ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরের পর এর ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় এক হাজার ২১০ জনে। কিন্তু বতর্মানে এই জেলে বন্দি রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধনের ব্যাপারে সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, আগামী ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেটের প্রশাসন ও বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধন উপলক্ষে কারাগারে আলোকসজ্বা করা হচ্ছে।

সিনিয়র জেল সুপার আরো বলেন, উদ্বোধন হলেও এখনই বন্দী স্থানান্তর হচ্ছে না। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বন্দী স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১০ সালে একনেকে পাস হয় সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প। এরপর ২০১১ সালের ১১ই আগস্ট তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট শহরতলীর বাদাঘাটে কারাগারের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মোট ৩০ একর জায়গার এপর নির্মিতি এই কারাগারে রয়েছে সর্বমোট ৬৪টি ভবন। প্রায় ২ হাজার বন্দী ধারণ ক্ষমতার এই কারাগারে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৪টি এবং নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে ৩টি ভবন। পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ৫ টি হাসপাতাল। রান্নার কাজের জন্য রয়েছে ৫টি ভবন, যার সবগুলোই ১ তলা। খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন, দোতলা একটি রেস্ট হাউসও আছে এই কারাগারে। রয়েছে ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি। এছাড়া থাকছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার রুম, প্রশাসনিক কার্যালয়।

Leave a Reply