মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

রাজনীতি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করবে।

মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে থাকবেন। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন সমন্বয়ক

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেতা বরকতুল্লাহ বুলু। সোমবার মতিঝিলস্থ গণফোরাম অফিসে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা বরকতুল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, গণফোরাম নেতাদের মধ্যে আ ও ম শফিউল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোস্তাক আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের মমিনুল ইসলাম, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাসদের আবদুল মালেক রতন।

বৈঠকে সারা দেশের সব জেলা-উপজেলায় জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের ব্যানারে সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আগের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা মইনুল হক চৌধুরী। তিনি গ্রেফতার হওয়ায় বরকতুল্লাহ বুলুকে ওই দায়িত্বে আনা হয়েছে।

সরকারের গতিবিধি দেখে কঠোর হবে ঐক্যফ্রন্ট

সুষ্ঠু নির্বাচনের সাত দফা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জানা গেছে, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সরকারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে কর্মসূচি কঠোর করবে ঐক্যফ্রন্ট। ঢাকায় একটি সমাবেশ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করে সেই কর্মসূচি ঘোঘণা করা হতে পারে।

এ দিকে সংলাপে বসতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

জানা গেছে, সরকার কোনো আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে হাঁটলে ঐক্যফ্রন্টও হার্ডলাইনে যাবে। ফ্রন্ট নেতাদের ধারণা বর্তমান মন্ত্রিসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের যে পরিকল্পনা সরকারের ছিল, তা থেকে তারা সরে এসেছে। সংসদ বহাল রেখে মুখে নির্বাচনকালীন সরকারের আওয়াজ দিলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদের আকারে তারা কোনো নড়চড় করবে না।

ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল সরকার নিজেদের মতো করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেই আন্দোলনের সূচনা করা হবে। যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছে ঐক্যফ্রন্টও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। ফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, সরকার তাদের চ্যালেঞ্জ মনে করছে। আর এ কারণেই তারাও সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারছে না।

গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা ছিল সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হতে পারে। বর্তমান সরকারের অর্ধডজন নেতা সভা-সমাবেশে বলেছিলেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের সরকারের আকার ছোট হবে। ওই সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার নামে পরিচিত হবে। কিন্তু সেটি আর হচ্ছে না বলেই রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে।

এ দিকে জোট গঠনের দুই সপ্তাহ না যেতেই ফ্রন্টের শীর্ষ দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের নামে দখল-চুরির মামলা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে বলে তথ্য রয়েছে। সেজন্য সতর্কতার সাথে পথ চলছে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

এসব বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ফ্রন্টের এক নেতা বলেছেন, বিভাগীয় শহর শেষে ঢাকার জনসভা থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে। এর জন্য আরো কিছু দিন অপেক্ষা করবে তারা।

আগামী ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ রেখে আগামী ৪ নভেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। ঐক্যফ্রন্টের প্রভাবশালী এক নেতা জানিয়েছেন, সরকার ফ্রন্টের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে রাজনীতিতে মঞ্চের বক্তব্য আর পর্দার পেছনের সিদ্ধান্তের মধ্যে ফারাক থাকে। এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। তাই সংলাপের দ্বার খোলা রেখেই সামনে এগোবে তারা।

এ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা সরকার প্রধান ও তাদের জোটের প্রধান দলের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। দেখি তারা কী জবাব দেয়। রাজসভাতে সমস্যার সমাধান না হলে রাজপথ বেছে নেয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। সরকার কঠোর অবস্থায় গেলে আমরা তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

মাঠের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গত বুধবার সিলেটে জনসভা করেছে ঐক্যফ্রন্ট। গত শনিবার চট্টগ্রামে জনসভা করেছে।

নেতারা বলেছেন, প্রশাসনের গড়িমসির পরও সিলেট-চট্টগ্রামে জনসভার অনুমতি পাওয়া, নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয়া, গ্রেফতার, তল্লাশির পরেও জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছে। জনসভাও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। যদিও সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আরো কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী ২ নভেম্বর রাজশাহীতে জনসভার কর্মসূচি রয়েছে। এরপর সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে বাধ্য করতে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সর্বশেষ দু’টি জনসভায় এমন আভাস দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বিএনপিরও সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপকালেও একই আভাস পাওয়া গেছে।

Leave a Reply