প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, সংলাপে বসতে প্রস্তুত ঐক্যফ্রন্ট : মওদুদ

রাজনীতি

সংলাপে বসতে সম্মত হওয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কখন কোথায় কোন সময় হবে নির্দিষ্ট সময় জানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সংলাপে বসার জন্য আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। আজকে আমরা জানতে পারলাম আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

আমাদের সাথে বসবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হলে কোথায়, কোন সময়, কোন তারিখে হবে আমরা অবশ্যই সাড়া দেব।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলের টয়োটা টাওয়ারে ঐক্যফ্রন্টের এক জরুরি বৈঠকের পর মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

তার অনুপস্থিতে মামলার কার্যক্রম চলেছে এবং রায় দেওয়া হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা এর নিন্দা জানাই। বেগম খালেদা জিয়া নানা শারীরিক রোগে আক্রান্ত। এটা সরকারের উপকৃত সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বাধা দূর করে তাকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করব। আমরা মনে করি এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, দ্বিতীয় হলো আমরা ২৮অক্টোবর এবং সোমবার দেখেছি সরকারি মন্ত্রীদের মদদে পরিবহন ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হেনস্তা ও দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

৩০অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সেজন্য আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না। আগামীকাল ৩টায় আমাদের যাওয়ার কথা ছিল, আমরা যাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসলে ইসির বিষয়টি আলোচনা হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর মান্না, প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। তবে কবে ও কোথায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে সে ব্ষিয়ে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের জানান, এই সংলাপের নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওবায়দুল কাদের আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিতে চান না।

রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া চিঠির জবাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান কাদের। চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে সাত দফা দাবি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছিল।

Leave a Reply