জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন

রাজনীতি

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

গত রবিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এতদিন ইসির হাতে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনো কপি ছিল না। তাছাড়া বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। এখন আমরা রায়ের কপি পেয়েছি। একই সঙ্গে আমরা জেনেছি, আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকলেও হাইকোর্র্টের রায়ের ওপর আপিল বিভাগ কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। সে জন্য ইসি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে।

ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। দলটির নিবন্ধন নম্বর ছিল ১৪।

২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা ৬৩০ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে আদালত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০এইচ ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হল।

২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। তবে তখন ইসি থেকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

তখন ইসি থেকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। যে কারণে ইসি এ বিষয়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। তবে তখন ইসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছিল, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনবার নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। এর মধ্যে ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পর অন্য সব ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে জামায়াতও নিষিদ্ধ হয়।

সাত বছর পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে আবার প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত।

দলটির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এক নেতা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের তলবিবাহক, সেটা আবারো প্রমাণ করল। কারণ নির্বাচন কমিশন তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজটি করেছে। তিনি এও বলেন, জামায়াত এর আগেও একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত না। সে প্রস্তুতি আমাদের আছে। নিষিদ্ধ হলে কীভাবে কাজ করতে হয়, সে অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’

তবে নতুন নামে যদি জামায়াত রাজনীতি করতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই আইন মেনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের সময় যদি দেখা যায়, এই দলের সঙ্গে একাত্তরের মানবতাবিরোধীরা যুক্ত, তাহলে তারা নিবন্ধন পাবে না। আনিসুল হক জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান, তাদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply