জাতীয় লজ্জা’র জন্য ক্ষমা চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক

ক্যানবেরা : রাষ্ট্রের দিক থেকে গাফিলতি রয়েছে স্বীকার করে যৌন হেনস্থার শিকার শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে অনন্য এক নজির গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। খবর ডয়েচে ভেল’র।

সোমবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত তার এই বক্তব্য শুনতে রাজধানী ক্যানবেরায় জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। সেই ভিড়ে ছোটবেলায় যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া অনেক মানুষ এবং তাদের বাবা-মায়েরাও ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় এই সমস্যাকে এতদিন দেখেও না দেখার ভান করে এসেছি আমরা। একটি জাতি হিসাবে আমরা তাই আজ আমাদের ত্রুটিগুলির সম্মুখীন। আমরা দুঃখিত, শিশুদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, সেই সব বাবা-মায়েদের কাছে, যাদের বিশ্বাস আমরা হারিয়েছি। একটি জাতি হিসাবে এটা আমাদের লজ্জা’।

অস্টেলিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলছিল বিভিন্নধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে বাড়তে থাকা শিশু যৌন হয়রানির ঘটনার তদন্ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির চার্চ বা অনাথ আশ্রমের ক্ষমতাশালী পুরুষদের দিকে।

ভারতের জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি বাচ্চা যৌন নিগ্রহের শিকার। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো, নাবালিকা বা শিশুর ওপর যৌন হেনস্থার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে পরিবারের মধ্যে, পরিবারেরই কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত সদস্যের হাতে। তাই সে সব ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, হচ্ছে না কোনো ডাইরি অথবা মামলা।

অন্তত ৯০ বছর ধরে হাজার হাজার শিশু নির্যাতিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে, এমনই তথ্য জানা গেছে চলমান এই তদন্ত থেকে। অন্তত আট হাজার মানুষের সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে উঠে এসেছে পনেরো হাজারশিশুর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনা।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক চার্চ ও স্কাউটসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই শিশুদের যৌন হয়রানি থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

সোমবার ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মরিসন কথা দেন, শিশু যৌন নিপীড়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একটি জাদুঘর চালু করা হবে।

Leave a Reply