সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের দাবি

জাতীয়

বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদ।

সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে দাবি করা হয়, দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনেই পাস হয়ে যাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন করে তা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করে তোলার।

সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে এখনো আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে দুই মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমরা আশাবাদী।’

সম্পাদক পরিষদ তাদের মানববন্ধন থেকে যেসব ধারায় আপত্তি আছে, সেগুলো তুলে ধরেন। ধারাগুলো হলো—১. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।

২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই আনতে হবে।

৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে, কিন্তু কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, তখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।

৪. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেওয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।

৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে। (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।

৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করতে হবে।

৭. এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এ আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সম্পাদক পরিষদ তাদের এসব দাবি উপস্থাপনের পর ১০ মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে তাঁরা তাঁদের মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, সংবাদ সম্পাদক মুনিরুজ্জামান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা।

Leave a Reply