‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’ ১৮ : আজীবন সম্মাননায় ভূষিত সুবীর নন্দী

বিনোদন

সুস্থ সংগীতের বিকাশ- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আবারো অনুষ্ঠিত হলো সংগীত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০১৮’ পাওয়ার্ড বাই সেভেন আপ। এবার যুগপূর্তি হলো আয়োজনটির। জমকালো এ আসরটি গত ২১শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় হবিগঞ্জের ‘দ্যা প্যালেস’ লাক্সারি রিসোর্টের উন্মুক্ত চত্বরে। তিন ঘণ্টার এই আয়োজনটি উপস্থাপনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। পরিচালনায় ছিলেন ইজাজ খান স্বপন। এবার আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়েছে সুবীর নন্দীকে। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, আমার জন্মস্থান হবিগঞ্জ। এখানেই আমাকে সম্মানিত করা হলো।

আমার জন্মভূমিতে চ্যানেল আই আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে আমি খুবই সম্মানিতবোধ করছি। এ সম্মাননা আমার একার নয়, পুরো হবিগঞ্জবাসীর। সুবীর নন্দীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ এবং ট্রান্সকম বেভারেজস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশীদ ইরফান চৌধুরী, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান এবং মো. খুরশীদ আলম। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং ট্রান্সকম বেভারেজস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশীদ ইরফান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফুর রহমান। সমাপনী বক্তব্যে চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ চ্যানেল আই-এর অগণিত দর্শকদের চ্যানেল আই-এর ২০ বছরে পদার্পণের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

অনুষ্ঠানে বাংলা গানের ইতিহাস পাঠ করেন আফসারা মিমি, শ্রী-কৃষ্ণ কীর্তন করেন চন্দনা মজুমদার, গজল করেন মিতালী মুখার্জি, লালনগীতি পরিবেশন করেন কিরণ চন্দ্র রায়, রবীন্দ্র সংগীত গেয়েছেন তপন মাহমুদ, নজরুল সংগীত ছন্দা চক্রবর্তী, দিজেন্দ্র সংগীত অনিমা রায়, আলতাফ মাহমুদ, ’৫২-গান করেছেন শিমুল ইউসুফ, রবিন ঘোষের গান ফাহমিদা নবী এবং স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রের শিল্পীরা পরিবেশন করেছেন দেশের গান। পুরস্কার প্রদানের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব। এবার দেয়া হয়েছে আজীবন সম্মাননাসহ ১৬টি ক্যাটাগরিতে সমালোচক পুরস্কার এবং ৬ ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন ভয়েস অ্যাওয়ার্ডস।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন রবীন্দ্র সংগীত (বীথি পান্ডে), নজরুল সংগীত (ছন্দা চক্রবর্তী), লোক সংগীত (সাগর বাউল), গীতিকার (আসিফ ইকবাল), সংগীত পরিচালক (অটামনাল মুন), মিউজিক ভিডিও (চন্দন রায় চৌধুরী), কাভার ডিজাইন (মাসুম বিল্লাহ্), সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার (এস আই সুমন), আধুনিক গান-২টা (সিঁথি সাহা এবং চন্দন সিনহা), ব্যান্ড (অরণ্য), নবাগত (রোমানা আক্তার ইতি), ছায়াছবির গান (চিরকুট) এবং উচ্চাঙ্গ সংগীত, যন্ত্র (গাজী আব্দুল হাকিম)। গোল্ডেন ভয়েস অ্যাওয়ার্ডস প্রাপ্তরা হলেন রবীন্দ্র সংগীত (রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা), নজরুল সংগীত (ফেরদৌস আরা), লোক সংগীত (মমতাজ), ছায়াছবির গান (সামিনা চৌধুরী), আধুনিক গান (কুমার বিশ্বজিৎ) এবং গোল্ডেন মেকার (আফজাল হোসেন)।

বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শেখ সাদী খান, আব্দুর রশীদ মজুমদার, ফেরদৌসী রহমান, ফরিদা পারভীন, সিতারা জেবিন, সৈয়দ আব্দুল হাদী, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, দ্য প্যালেস লাক্সারী রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান, শাহানা সিরাজ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মঈনুদ্দীন আহমেদ টিপু, মোহাম্মদ আতাউর রহমান প্রধান, মানাম আহমেদ, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা প্রমুখ।

Leave a Reply