আমিরাতকে সাত গোলে হারালো বাংলাদেশ

খেলার খবর

আবুধাবি : সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আনুচিং মগিনির হ্যাটট্রিকে প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলের লিড নেয় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। আনুচিংয়ের হ্যাটট্র্রিক ছাড়াও একটি করে গোল করেছেন শামসুন্নাহার সিনিয়র, আনাই মগিনি ও ইলামনি। অন্য গোলটি বাংলাদেশ পেয়েছে আত্মঘাতী থেকে।

শুক্রবার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তাফা কামাল স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দল দুটি। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ১০-০ আর দ্বিতীয় ম্যাচে লেবাননকে ৮-০ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এই জয়ে অবশ্য পয়েন্ট টেবিলে ভিয়েতনামের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে থাকলো বাংলাদেশ। সমান তিন জয় ভিয়েতনামেরও।

ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ রবিবার নিজেদের শেষ ম্যাচটিই হবে বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা। তিন ম্যাচে যারা তিটিই জিতেছে। মোট গোল করেছে ২৫টি। বাংলাদেশেরও ২৫ গোল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে তাই সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততেই হবে। ড্র করলে আসবে অন্য হিসেব-নিকেশ।

প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ বড় জয় পেলেও আফসোস ছিল হ্যাটট্রিক নিয়ে। আনুচিং, শামসুন্নাহার জুনিয়র, তহুরারা জোড়া গোল পেলেও হ্যাটট্রিকে দেখা পাচ্ছিলেন না। আনুচিং অবশ্য হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন প্রথম ম্যাচেই। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে ২ গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাকে তুলে নেন বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। পরে লেবাননের বিপক্ষে জায়গা হয়েছিল সাইড বেঞ্চে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ফিরেই হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন আনুচিং মগিনি।

ভিয়েতনামের ম্যাচের কথা ভেবেই এই ম্যাচে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে মাঠে নামে বাংলাদেশ। নিয়মিত অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও ঋতুপন্না চাকমাকে বিশ্রাম দেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। অধিনায়কত্বের আর্ম ব্যান্ড ছিল আঁখির হাতে। প্রথম একাদশে সুযোগ পান নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, আনুচিং মগিনি ও রোজিনা আক্তার।

আগের দুই ম্যাচের মতো শুরুতে বাংলাদেশ গোছালো খেলতে না পারলেও সময়ের সাথে সাথে মানিয়ে নেয়। তবে প্রথম লিড পেতে ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ডি-বক্সের ভিতরে ফরোয়ার্ড তহুরাকে ফাউল করেন আরব আমিরাতের খেলোয়াড়। ফলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। শামসুনন্নাহার সিনিয়র স্পট কিক থেকে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে।

১৭ মিনিটে মনিকা চাকমার দূরপাল্লার শট চলে যায় বার পোস্টের উপর দিয়ে। ফলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি লাল-সবুজের মেয়েদের। ২৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তহুরার নেয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে আবারো হতাশ হতে হয় স্বাগতিক দর্শকদের।

তবে পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আঁখির শট থেকে আনুচিংয়ের দুর্দান্ত হেড দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ৩৪ মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন নেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে বড় বোন আনাই মগিনির দুর্দান্ত এক ক্রসে মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে।

৩৬ মিনিটে ফের গোল আনুচিংয়ের। জোগান দাতা সেই বড় বোন। আনাইয়ের ক্রস প্রথমে আমিরাতের ডিফেন্সে প্রতিহত হলেও দুর্দান্ত বাইসাইকেল ভলিতে বল জালে জড়ান আনুচিং। তুলে নেন হ্যাটট্রিক।

৩৯ মিনিটে রোজিনার গোল অফসাইডে বাতিল হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আত্মঘাতী গোল পায় বাংলাদেশ। ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন মিডফিল্ডার আলিয়া। তাতে আগের দুই ম্যাচের মতো প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলের লিড পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে রোদবৃষ্টির সঙ্গে লড়াই শেষে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে মেঘগুলো। অবশ্য খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই বৃষ্টি। তবে বাংলাদেশের খেলার ছন্দ ওই সময় থেকেই যেনে খেই হারাল। বাংলাদেশ কোচ তিনটি পরিবর্তন আনলেন। ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার সিনিয়রকে তুলে নামান ফরোয়ার্ড সুলতানাকে। তহুরার বদলি নামান ইলামনি এবং সাজেদার বদলে নামান রিপাকে।

তবে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার শট নিলেও সেগুলো ফলোপ্রসূ হয়নি। ৭২ মিনিটে আনাই মুগিনিকে অবশ্য হতাশ হতে হয়নি। এই ডিফেন্ডারের সরাসরি শট গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে ঢুকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৬-০ গোলে। ডিফেন্ডার হলেও প্রতি ম্যাচেই ওভারল্যাপ করে খেলেন এই তারকা। আগের দুই ম্যাচের মতোই তাই এদিন গোল দেখে পেলেন।

যোগ করা সমেয় আঁখির শট জালে না ঢুকলেও ইলামনি সেটি জালে জড়িয়ে দেন। ফলে ৭-০ গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে বাংলাদেশের।

রোববার ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশ গ্রুপে নিজেদের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচ খেলবে। যে ম্যাচটি এক রকম ফাইনাল। হারলে বা ড্র করলে জটিল সমীকরণ আসতে পারে। তবে বাংলাদেশের ভাবনায় ওসব নেই। বাংলাদেশ কোচ ম্যাচ শেষে বলে গেলেন, ভিয়েতনামের সাথে জয়ই তার একমাত্র ভাবনা।

Leave a Reply