আগামী আন্দোলনকে টার্গেট করে আসছে সিলেট জেলা যুবদল!

সিলেট বিভাগ

২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার : দেড় যুগ আগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে দ্রুতই ঘোষণা হতে যাচ্ছে সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি। আসন্ন আন্দোলনকে সামনে রেখে দলকে চাঙ্গা করতে সারা দেশের সাথে সিলেটের যুবদলেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বর্তমান সভাপতি কমিটি থেকে বাদ পড়বেন এটা নিশ্চিত। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন কমিটিতে সাবেক ও বর্তমান যুব ও ছাত্রনেতারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র বলছে, ২০০০ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বে থাকা সভাপতি মির্জা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি অনুমোদন দেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে আর কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। এই সময়ে কমিটির অনেক নেতা মৃত্যুবরন করেছেন। সভাপতি আব্দুল মান্নান মূল সংগঠন বিএনপিতে চলে যাওয়ার কারণে নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না।

সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ একাই যুবদলের হাল ধরে আছেন বীর দর্পে। অনেকে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি’সহ অন্যান্য অংঙ্গ সংগঠনে। প্রায় ১৮ বছর আগে করা ৭১ সদস্যের কমিটির মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮ জন নেতা বর্তমানে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, জেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি আব্দুল মান্নান যুবদলের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রায় ৫ বছর আগে। তিনি এখন মূলদল বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। এজন্য আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে পরিবর্তন আসছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান কমিটিতে থাকা সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল হাসান শাহীন, জেলা যুগ্ম-সম্পাদক নিজাম ইউ জায়গীরদার, নজিবুর রহমান নজিব, সৈয়দ সাফেক মাহবুব, মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আব্দুল মালেক, কোহিনূর আহমদের মধ্যে কোন দুই নেতাকে নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে।

তবে দলের অপর একটি অংশ বলছে, যুবদলের বর্তমান নেতাদের মধ্যে ব্যাপক উপ-গ্রুপিং ও কোন্দল বিদ্যমান। এদের মধ্যে একজনকে শীর্ষপদে আনলে অন্যরা তা মানবেন না। সেক্ষেত্রে এসব নেতাদের মূল দল বিএনপিতে পদোন্নতি দিয়ে  গ্রুপিংমুক্ত যুবদল গঠনের জন্য সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কপাল খুলে যেতে পারে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল হাসান শাহীন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরীর।

আর হাবিবুর রহমান হাবিব, সাহেদ আহমদ, ময়নুল ইসলাম মঞ্জু, মকসুদুল করিম নুহেল, সামছুল ইসলাম টিটু, মাসুদ আলী মাছুম, সোনাহর আলী সোহেল ও মঈন উদ্দিন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হতে চান বলে দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দলকে গতিশীল করতে সাধারণ তরুণ ও দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে যুবদলের কমিটি গঠন করা খুবই জরুরী। দলের স্বার্থে এবার তাই করা হবে বলে আশা করছি। দীর্ঘদিন পূর্ব থেকে আমি নিজে আর যুবদল করতে আগ্রহী নই। বয়স হয়েছে। এখন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। শুনেছি দ্রুতই জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সেখানে অভিজ্ঞ ত্যাগী পুরাতন ও তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে একটি গ্রহন যোগ্য কমিটি গঠনের মাধ্যমে যুবদল শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ বলেন, যুবদল কমিটি গঠন উপলক্ষে এখন যারা দলের মূল দায়িত্বে আসতে চায় তারা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন বালু’র ট্রাক দিয়ে গুলশান অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন তখন হরতাল অবরোধের মতো আন্দোলন সংগ্রামে তাদের অংশগ্রহন চোখে পড়েনি। বরং কেউ কেউ তখন তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। যাহা কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও  সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু অবগত আছেন। কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন করে মামুন বলেন বিগতদিনে সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে যারা জীবনবাজি রেখে কর্মসুচি পালন করেছেন তাদের পুরস্কৃত না করলেও তিরস্কৃত যেন না করা হয়।

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, যুবদল নেতা কামরুল হাসান শাহীন বলেন, ‘আমাদের দাবি নতুন ও পুরাতন নেতাদের সমন্বয়ে জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা হোক। যারা দুঃসময়ে বিদেশে পালিয়ে যায়নি, যারা ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় ও বিগত হরতাল অবরোধে রাজপথে ছিলেন এমন ত্যাগী নেতারা দায়িত্ব পাবেন। যারা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন সেই সব ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। যদি এমন কমিটি করা হয় তাহলে সিলেট জেলা যুবদল অত্যন্ত শক্তিশালী হবে, যারা আগামী আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

 জেলা যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জায়গীরদার বলেন, কমিটি গঠনকে সামনে রেখে এখন মৌসুমী নেতাদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। যারা বিগত দিনে আন্দোলনে ছিল না। যারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া না দিয়ে ঘরে বসে ছিল, সে সব নেতাদের হাতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃত্ব উঠবে না বলেই আমি বিশ্বাস করি। কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ এরই মধ্যে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আশাকরি যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গদলের নেতৃত্বভার যোগ্যদের কাঁধেই অর্পণ করবেন কেন্দ্রিয় নেতারা।

Leave a Reply