দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা দ্রুতই পরিবর্তন হবে : ড. কামাল

রাজনীতি

রাজনৈতিক অবস্থার দ্রুতই পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসকাবের কনফারেন্স কে জাতীয় নাগরিক ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। : ড. কামাল বলেন, খারাপ কাজ যারা করছে তাদের কাছ থেকে দেশকে অবশ্যই মুক্ত করতে হবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, মুক্ত হওয়া কোনো কঠিন ব্যাপার না। একবার না বহুবার অতীতে হয়েছে। আবার ইনশাল্লাহ হবে, দ্রুত হবে। আমি বলব, আপনারা ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে ঐক্যের কথা চিন্তা করুন। নিজে নিজের মধ্যে চিন্তা করেন। আপনারা জনগণ মালিক হিসেবে চিন্তা করুন। আসুন, দেশে পরিবর্তন আনা, দেশ গড়ার, প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যারা উল্টো পথে আছে তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা এভাবে যদি আমরা মুভ করি তাহলে আমি মনে করি আমরা সাড়া পাবোই। অন্যতম সংবিধান প্রণেতা বলেন, একাত্তরে কি ভেবেছিলো আমরা ৯ মাসের মধ্যে স্বাধীন হবো। কেউ ভাবে নাই। বাঙালি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম বলে আমরা সফল হয়েছিলাম। এখন যারা বলে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে তারা আমাদের সব শেষ করে দিচ্ছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই স্বৈরাচার শাসককে দেশ ছাড়তে হবে। নইলে আমাদের সঙ্গে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। আমরা কথা হলো, জনগণকে ছাড়া গণতন্ত্র হতে পারে না। কোনো নেতা-নেত্রীর ওপর ভর করে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয় না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিকে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততার পেছনে ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের এই প্রবীণ আইনজীবী। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জেলায় জেলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেন তিনি। : ১৯৯০ সালে এইচ এম এরশাদের পতনের প্রসঙ্গ টেনে কামাল হোসেন বলেন, আশির পরে যে এরশাদ থেকে মুক্ত হলাম। আর এরশাদের ব্যাপারে, ওর নামটা আমি নিতে চাই না। এটা একটা সিøপ হয়ে গেলো। তখন ১৯৯০ সনে বৃটিশ মিনিস্টার এসে বলে, তোমার ওই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ও (এরশাদ) তো বলে যে, সে আরো ১৫ বছর আছে। আমি তখন ফট করে বলে দিলাম যে, আমি তো ওকে (এরশাদ) ১৫ সপ্তাহও দেখি না। সেপ্টেম্বর মাস ছিলো। আল্লাহর রহমতে ১৫ সপ্তাহের মধ্যে আমরা মুক্ত হলাম। আমি লন্ডনে যখন গেছি ওদের ফরেন মিনিস্ট্রির লোকেরা বলেন ড. কামাল হোসেন, আমার মন্ত্রী বলেছেন আপনি লন্ডনে আসলে আপনাকে নিয়ে যেতে। আমি গেছি। বৃটিশ মন্ত্রী লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, তুমি কি করে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলে। সে (এরশাদ) ১৫ সপ্তাহও নাই। আমি বৃটিশ মন্ত্রীকে বললাম দেখো, আমাদের বাঙালিদের একটা ব্যাপার আছে। অন্যায়ের সহ্যের সীমা যখন পার হয়ে যায় তখন বাঙালিরা দাঁড়িয়ে যাই-আর মেনে নেয়া যায় না, পরির্বতন আনতে হবে। এটা একবার নয়, বার বার আমরা এটা প্রমাণ করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, পেরেছি। : গণফোরামের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজ্ঞ কামাল হোসেন বলেন, কোনো নেতা-নেত্রীর ওপর ভর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা ১৯৪৭ সাল থেকে লড়াই করছি। আইয়ুব খান বলেছিল আমরা অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেব। আজকে কোথায় অস্ত্র আর কোথায় আইয়ুব খান। এদেশের মানুষ ভাষা আন্দোলন করেছে। বলা হল বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে না। কয়েকজন ছেলে বললো হবে না মানে। বাংলাই তো রাষ্ট্র ভাষা হবে। তার পর কয়েকজনকে জীবন দিতে হল। আর পাকিস্তান থাকতেই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হল। : তিনি বলেন, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া হবে এই নামটা বলার দরকার নেই। কিসের কামাল হোসেনের নেতৃত্ব। আপনি নিজেই একটা নেতৃত্ব। আপনারা সবাই একজন নেতা। নামটা বলার অর্থ কি? আমি মরে গেলে কি তাহলে ঐক্য হবে না। তখন কি সবাই পরাধীন থাকবেন? আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে যতোদিন জীবিত আছি আপনাদের সঙ্গে থাকব। না থাকলে আপনাদেরই জাতীয় ঐক্য করতে হবে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, আমাদের এতো কোটি বাঙালিকে মেরে পরাধীন রাখবে। আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখবে। এই শক্তি পৃথিবীতেও কোথাও নেই। আমাদের দেশে তো নেই। জনগণকে মেরে কোনো লাভ হবে না। এই দেশ আমাদের। তাই আমাদের দেশকে গড়ার জন্য কারো অনুমতি লাগবে না। : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র আনতে হলে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ড. কামালকে সামনে আসতে হবে। অনেক কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো করতে হবে। : তিনি বলেন, যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তখন স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এখন জনগণের সঙ্গে সরকার সব ক্ষেত্রে চালাকি করছে। গোয়েন্দা বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে দেশ শাসন করছে। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে তুলে নেয়া হচ্ছে। এটা ভুল কাজ হচ্ছে। সরকার ভুল করছে। এসব করে লাভ হবে না। তার চেয়ে জনগণকে কথা বলতে দেন। কথা বলতে দিলে গুজব ছড়াবে না। কথা বলতে না দিলে গুজব ছড়াবেই। : আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, গণফোরামের মোস্তাক হোসেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন, কেস্ত্রীয় নেতা নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply