বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হবে না

রাজনীতি

বিএনপির সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল ॥ অবিলম্বে চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি ॥ সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এবং শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে সাজানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে সরকার। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০টি আসনও পাবে না। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। দলীয়করণ করে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। : গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দুপুর আড়াইটার মধ্যে ফকিরেরপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়কটি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশ শুরুর আগেই নয়াপল্টন লাখো জনতার ঢল নামে। কিছু শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে মঞ্চ তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপি। ফলে খোলা ট্রাকের মঞ্চ থেকে সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যানার হাতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক মিছিল মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতাকর্মীরা ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি থাকতে দেবো না’, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে থাকে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে তার বিশাল প্রতিকৃতি সম্বলিত দুটি ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়। রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলায়ও একযোগে এই সমাবেশ পালিত হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তাঁকে মুক্তি দিয়ে ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার দাবি বলে দিয়েছি যে, বাংলাদেশে নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই এক নম্বর পূর্বশর্ত হচ্ছেÑ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না এবং এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না। আমরা বলছি এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, আমরা বলেছি সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা বলেছি যে, নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। : এই দাবির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ পেশাজীবীদের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। সিপিবির নেতৃত্বে বাম মোর্চা গঠনের জন্য তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আনন্দের কথা। আমি অভিনন্দন জানাতে চাই ৮টি বাম রাজনৈতিক দলকে, তারা মোর্চা গঠন করেছে। জনগণের এই ইস্যুগুলোকে তারা দাবি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। একইভাবে আমি আশা করব অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তারা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে একত্রিত হবেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন। যার মধ্য দিয়ে আমরা এদের পরাজিত করতে পারব এবং জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাই। : প্রখর উত্তাপের মধ্যে স্বল্প সময়ে সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যিনি নির্যাতিত হয়েছেন এবং নির্বাসিত হয়ে আছেন তিনি আপনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এই সমাবেশের জন্য। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসেছেন। এই ধারা অটুট রাখবেন। এরপরে যেকোনো কর্মসূচিতে এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ করবেনÑ সেটাই হবে আমাদের মুক্তির পথ। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন, আন্দোলন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করা হবে। : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ লুন্ঠনের পর ভোল্টে সোনা চুরির ঘটনার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, এই সরকার দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটা নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ব্যাংকিং সেক্টার ধ্বংস করে দিয়েছে। সব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও বাদ দেয়া হচ্ছে না। বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থান নেই, মানুষ চাকরি পাচ্ছে না। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। : মাদক অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন-গুমের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে তারা। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ অনিরাপদ। তারা জানে না কখন তাদের মৃত্যু হবে। তারা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। আপনারা দেখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কিভাবে তারা (সরকার) দমন করছে। আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। মাথা মুড়ে নির্যাতন করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আজকে বিদেশি দূতাবাসগুলো থেকে বলা হচ্ছে, এটা অন্যায় করা হচ্ছে। এই নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করো। শিক্ষকরাও বেরিয়ে এসেছেন, তারা বলছেন এখন ছাত্রলীগের যে ভূমিকা সেটা আইয়ুব খান-মুনায়েম খানের আমলে যে ছাত্র সংগঠন ছিল এনএসএফের চাইতেও খারাপ ভূমিকা। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনার সকল দলের অংশগ্রহণের নির্বাচন করবেন না। কারণ তারা জানেন সকল দল অংশগ্রহণ করলে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে আপনারা ২০টি আসনও পাবেন না। সেই ভয়ে আপনারা দেশনেত্রীকে আটক করে রেখেছেন। এই অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অবৈধ সরকার আমাদের নেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে সরকার আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলে দিতে চাই, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির মতো কোনো নির্বাচন আর এদেশে হতে দেয়া হবে না এবং দেশনেত্রীকে ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না। এই সরকার স্বৈরাচারি সরকার। সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। আমাদের বিশ্বাস সকল জাতীয় শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণঅভ্যুত্থানের এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, বিএনপি জনগণের সাথে নিয়ে রাস্তায় থাকবে। ইনশাল্লাহ এই সরকারের পতন ঘটবে। তিনি বলেন, আমরা অনেকবার সভা করতে চেয়েছি। আমাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। আজকের সভা করতে অনুমতি দিয়েছে, তাও মৌখিকভাবে। আমাদের যদি মঞ্চ করে সভা-সমাবেশ করতে দিত, তাহলে কাল প্রধানমন্ত্রী যে সভা করবেন তার চেয়ে বেশি লোক হতো। এ সরকার আমাদের সভা করতে দেয় না, কারণ তারা বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। এ সরকারের জনগণের ওপর আস্থা নেই, তাই আবার ৫ জানুয়ারি মার্কা একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। : বিএনপির এ নেতা বলেন, এ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশের তিনটি প্রধান স্তম্ভ নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দেশের প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। দেশের জনগণ এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত না হলে এ দেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চাইলে এবার আর জনগণ বসে থাকবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে দাবি আদায় করবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগামী তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনগণ কোনো ভোট কারচুপির নির্বাচন হতে দেবে না। আর আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হবে না। কারণ এরই মাঝে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জনগণ দেখেছে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তাই আগামী নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সরকারি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে। সরকারি খরচে সরকারি আমলারা এই জনসভার ব্যবস্থা করবেন। দেখাবেন বিশাল জনসভা। আমাদের এখানে আজকে যে জনসমাগম হয়েছে, সত্যিকার অর্থে যদি তাদের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার না করেন তাহলে এর চাইতে কম লোকের সমাগম সেখানে হবে। কিন্তু দেখানো হবে খুব বড় সমাবেশ। আজকে নির্বাচন কমিশন চোখের সামনে দেখছেন, সংবাদপত্রের সম্পাদকরা দেখছেন, দেশের সচেতন মানুষ দেখছেন, বুদ্ধিজীবীরা দেখছেন, দেশে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। যদি অর্থপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই, তাহলে এখন থেকে আমাদের সমান সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সভা করতে মাসের পর মাস অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সামনে আমরা আর অনুমতি চাইব না। সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেব এবং সেটি পুলিশকে জানিয়ে দেব আমরা অমুক দিন অমুক জায়গায় সভা করব। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচন যাবো। কেউ যদি মনে করেন, ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন তাহলে ভুল করবেন। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাব। এছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। : তিনি বলেন, এদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে সেটি কারো বুঝতে বাকি নেই। কারণ ঢাকা মহানগরের এক নেতা বরিশালের পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েছে। তাহলে দেশের অবস্থা কী আপনারা বুঝেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, যারা নির্যাতন করছে তারা কেউ মাফ পায়নি। তাই জনগণকে নির্যাতন করবেন না। আমরা এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব। এর বাইরে কোনো নির্বাচন হবে না। আর ভোটের আগে এ নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, তাঁকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাবো। কেউ যদি মনে করেন ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন, সেই আশা করবেন না। ইনশাল্লাহ আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং তাঁর নির্দেশমতো আমরা নির্বাচনে যাবো। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আর কোনো নির্বাচন নয়। এ সরকার এ দেশের বৈধ সরকার নয়। তাই তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। ভারতের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের একটি দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে এ দেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়। তাই বন্ধুত্ব করতে হলে জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে দিল্লির গোলামি করতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা হবে এদেশের জনগণের ভোটে নিবাচিত জনপ্রতিনিধি দিয়ে। ভিন দেশের কারো সমর্থন নিয়ে নয়। সাবধান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না। এদেশের মানুষ সহ্য করবে না। তিনি বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, সরকারের পদত্যাগ চাই, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চাই। এর আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। আর যেদিন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত হবেন সে দিন দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে। : বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করব। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিনা ভোটের সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করে দেশ চালাচ্ছে। তাই দেশের জনগণের জন্য এ সরকারকে অপসারণ করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এসব করতে হলে আমাদের যা করতে হবে তা হচ্ছে সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, যদি দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চান তাহলে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। কারণ এক দলের নেত্রী জেলে থাকবেন, আর একজন সরকারি খরচে সভা-সমাবেশ করে ভোট চাইবেন, তা হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুর কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ। : এছাড়া সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মসিউর রহমান, জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম, সহ-জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নীলুফার চৌধুরী মনি, সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, তকদির হোসেন মো. জসিম, এম এ মতিন, আ ক ম মোজ্জামেল হক, শেখ রবিউল আলম রবি, আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ওলামা দলের সভাপতি এম এ মালেক, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাছিত আঞ্জু, মোয়াজ্জেম হোসেন, ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, এম এ হান্নান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরাজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, মেহবুব মাছুম শান্ত, ওমর ফারুক মুন্না, কাজী মোখতার হোসেন, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ- সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, উত্তরের সভাপতি এসএম মিজানুর রহমান রাজ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। : লাকসামে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল : বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি, সুস্বাস্থ্য কামনা ও মুক্তির দাবিতে লাকসাম উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে লাকসাম শহরের কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম। মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে রূপান্তরিত হয়। সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে কোনো নিবার্চন হতে দিব না এবং হতে দেয়া হবে না। আবুল কালাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। : সিরাজদিখানে পুলিশের বাধায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পন্ড : সিরাজদিখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর সিরাজদিখান থানা পুলিশ বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। এএসআই সোহাগ বিএনপি নেতা সোহেল আহমেদকে আটক করলে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা খলিল সরকার, পিয়ার মোল্লা, মাহাবুব হোসেন রন্টু, নেতা জাকির দেওয়ান, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ইমতিয়াজ নবী, দেলোয়ার ভূইয়া, সহসভাপতি হুমায়ুন ভূইয়া, যুবদল নেতা মাহমুদ হাসান ফাহাদ, মেহেদী হাসান হীরা, উপজেলা ছাত্রছলের যুগ্ম আহবায়ক ওমর ফারুক রিগ্যান, বিক্রমপুর কে.বি ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল মল্লিক, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া প্রমুখ। এছাড়া সভা পন্ড হওয়ার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আউলাদ হোসেনের নেতৃত্বে কার্যালয়ের সামনে গেলে পুলিশ দাঁড়াতে দেয়নি। : গাজীপুর : স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালিদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গাজীপুর জেলা বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায় রাজবাড়ী রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা মীর হালিমুজ্জামান ননী সভাপতিত্ব করেন। ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ মাজহারুল আলম বলেন, লাখ লাখ জনতা যেদিন বেগম জিয়াকে সংবর্ধনা জানাবে সেদিন হাসিনার গদি থাকবে না। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, আহম্মদ আলী রুশদী, সিনিয়র যুগ্ম স¤পাদক সোহরাব উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আব্দুল মোতালিব, ইব্রাহীম খলিল, আব্দুস সালাম শামীম, বশির আহম্মেদ বাচ্চু, হুমায়ুন কবির রাজু, অ্যাড. মনির হোসেন, নবগঠিত গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন মনির, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম টুটুল, সহ-সভাপতি জিল্লুর রহমান মাছুম, নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ স¤পাদক ইমরান রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নবগঠিত জেলা যুবদল, ছাত্রদল মিছিল সহকারে সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়াও জেলা পেশাজীবী পরিষদ নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কুতুব উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, জাসাস নেতা নাহিন মমতাজি, বিল্লাল বেপারী, মহিলা দলনেতা আনোয়ারা বেগম, সোহেলীসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। : পাবনা : পাবনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসাসহ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে পাবনায় সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। শুক্রবার বাদ জুমা দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করা চেষ্টা করলে বাঁধা দেয় পুলিশ। শেষে দলীয় কার্যালয় চত্বরে জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব) কে এস মাহমুদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ আহমেদ হিমেল রানা,সাংগঠনিক সম্পাদক মনির আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রিন্স, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমুখ। এসময় জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন বাবু, যুবদল নেতা রাসেল বিশ্বাস, সাইদুল ইসলাম রুপম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও অ্যাড. শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। অন্যথায় তাদের কিছু হলে এর সকল দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। : ফরিদপুর : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। সমাবেশ শেষে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়ার নির্দেশনায় গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের গোয়ালচামটে র‌্যাফেলস ইন মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। এরপর আলিমুজ্জামান ব্রিজের নিকট রকিবউদ্দিন পৌর মার্কেটের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। : ফরিদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাজেদ মিয়া, শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবলু, সদস্য মাসুম দেওয়ান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদ প্রমুখ। : বক্তাগণ অবিলম্বে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা ও কারামুক্তি দাবি করেন অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি পালনের অঙ্গীকার করেন। এদিকে, সমাবেশ শেষে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। : অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ফরিদপুরে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের ব্রক্ষ্মসমাজ সড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাইস ও জেলা ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার হোসেন শিথীল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। নেতৃবৃন্দ বেগম জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি করেন এবং ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশী বাধার নিন্দা জানান। একইসাথে ফরিদপুর জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করায় অভিনন্দন জানান। : মাদারীপুর : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় মাদারীপুর জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. জামিনুর হোসেন মিঠুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি বাবুল হাওলাদার, সহ সভাপতি আতাবর হাওলাদার, সহ-সভাপতি বজলুর রহমান হাওলাদার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শরীফ সাইফুল কবির, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী আকন, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আচমত আলী মাতুব্বর, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সালেহ আহমেদ ফকির, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ গোলজার আহমেদ চিশতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সদর উপজেলা ঃ গাউস-উর-রহমান,সভাপতি জেলা যুবদল মোফাজ্জেল হোসেন খান মফা, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আঃ লতিফ মিয়া, জেলা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক বেপারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি পারভেজ, সভাপতি জেলা ছাত্রদল শাহিন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক নুরে মোস্তফা , সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সুজন, উপস্থিত ছিলেন সভাপতি, কালকিনি উপজেলা ছাত্রদল আঃ হাই, সাধারণ সম্পাদক মামুন শিকদার, শামীম , সভাপতি জেলা ওলামা দল আবুল বাশার বাচ্চু, রিমন, সিমু কাজী, কামাল খান, মিজান শরীফ, রোকনুজ্জামান, আলমগীর হোসেন খান, মিজান, সালাউদ্দিন বেপারী, মোসলেম উদ্দিন, এস এম তুহিন, জাকির হোসেন মোল্লা, রাজৈর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহরিয়ার, হিমেল, কালাম বেপারী, আজাদ খান, জেলা বাস্তুহারা দল সভাপতি বুলি বেগম, মহিন মাতুব্বরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। : নেত্রকোনা : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার নেত্রকোনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নেত্রকোনা জেলা বিএনপি। : সকাল ১১টায় ছোট বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, দলের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট অর্থোপেডিক চিকিৎসক ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ারুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিঃ সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব ভূঁইয়া, সৈয়দ জাহেদুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সালাহ্উদ্দিন খান মিল্কী, বজলুর রহমান পাঠান, মশিউর রহমান মশু, সহ-সম্পাদক আমিনুল হক আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, কোষাধ্যক্ষ এস এম মুসা, প্রচার সম্পাদক সেলিম আহমেদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ হাবিবুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আজহারুল ইসলাম কমল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোলায়মান হাসান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খালিদ সাইফুল্লাহ মুন্না, ফারুক তালুকদার, সিরাজুল ইসলাম তালুকদার রুবেল, শরিফুল ইসলাম সবুজ, মোয়াজ্জেম হোসেন, ওমর ফারুক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক আনিক মাহমুদ চৌধুরী, সিঃ সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম এলিন, সহ-সভাপতি এস এম দেলোয়ার হোসেন, শামছুল হুদা শামীম, শ্রমিক দলের নেতা ইদ্রিস আলী ও মিন্টু প্রমুখ। : সিরাজগঞ্জ : স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ জানান, শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের ভাসানী মিলনায়তন চত্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি গণসমাবেশ করেছে । গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি আজিজুর রহমান দুলালের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু সাইদ সুইট, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমর কৃষ্ণদাস,মুন্সি জাহিদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফাজামান, শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন ভুইয়া সাফী, জেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা আব্দুল জব্বার বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোরাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম, জেলা কৃষকদলের আহবায়ক সাইদুল ইসলাম খান আলো, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রাজেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন হক রঞ্জু, জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রহমান সুমনসহ প্রমুখ। এর আগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা শহরে মিছিল করে গণসমাবেশে যোগদান করেন। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি এই বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশের করে। : মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেস অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দূল হাই’র সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ উপস্থিত বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতোয়ার প্রমুখ।

Leave a Reply