সুনামগঞ্জে চার গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী

সিলেট বিভাগ

আজ শুক্রবার সুনামগঞ্জে রোদ্রজ্জল আবহাওয়া বিরাজ করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর হালকা মাঝারী ও ভারি বৃষ্টিপাতের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি গত বুধবার থেকে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার সমতল ও নিন্মাঞ্চল। গত ৪ দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের তেঘরিয়া, নবীনগর ও নতুনবাজার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। বৃষ্টির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছিল। সুরমা নদীর তীরবর্তি জনবসতিগুলো এখন সম্পূর্ণরুপে হুমকীর সম্মুখীন। শুক্রবার সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের আফতাবনগর, নতুন হাছননগর, পূর্ব সুলতানপুর ও পাঠানবাড়ি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

নতুন হাছননগর গ্রামের বাবুল মিয়া, মারফত আলী, আব্দুল কাইয়্যুম, সাজিদুর রহমান, সরজান বিবি, জমির উদ্দিন বাবুর্চি, সুমন মিয়া, মোরশেদ আলম, জাহানারা বেগম, হেনা বেগম, অযুদ মিয়া, আমীর আলী, ফারুক মিয়া, খোকন মিয়া, নাসির মিয়া, কিবরিয়া, আক্তার হোসেন, আব্দুল বারিক, সোনামালা বেগম, আজিজুর রহমান, আব্দুল মুকিত, সরোয়ার মিয়া, জয়নাল আবেদীন, রবি মিয়া রইব্যা, ইউনুছ আলী, ফারুক মিয়া, খুশনুর মিয়া, জহির মিয়া, সুনু মিয়া, চন্দ্রা বেগম, শহীদ মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, তফিক মিয়া, ময়না মিয়া, পাঠানবাড়ী গ্রামের জসিম উদ্দিন, ফারুক মিয়া, মিলাদুল মিয়া, আব্দুস সালাম, বশির মিয়া, আব্দুর রউফ, আব্দুল কাদির, শহীদ মিয়া ও উত্তম মিয়াসহ ৪ গ্রামের শতাধিক পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে দেখা যায়।

হাছননগর এলাকার ময়নার পয়েন্ট, শান্তিবাগ ও মরাটিলা এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ীঘর পানিতে ভাসছে বলেও জানিয়েছেন কৃষকলীগ নেতা কালা মিয়া ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কারিমুল ইসলাম মিন্টু। বসতবাড়ী জলমগ্ন হওয়ায় ও রান্নার চুলা পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ায় পানিবন্দী পরিবারগুলো শুক্রবার দিনব্যাপী অনাহারে দিনাতিপাত করেছে।

স্থানীয় সমাজসেবী ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম তহুর, কৃষকলীগ পৌর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক ভান্ডারী, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাদশাহ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদসহ এলাকার স্থানীয় লোকজন জানান, আমরা পানিবন্দী মানুষের কথা পৌরসভার মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলর ফজর নুরকে জানিয়েছি কিন্তু কেউই পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগে পাশে দাড়ায়নি।

Leave a Reply