নকআউট পর্বের শেষ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়া

খেলার খবর

রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়া। স্পার্তাক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ ও নিজের দল নিয়ে কথা বলেন অসপিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কলম্বিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন দাভিদ অসপিনা। তবে তাতে দল ভীত নয় বলে জানান কলম্বিয়ার এই গোলরক্ষক। চার বছর আগের চেয়ে এখন আমরা আরও ভালো দল। আমরা ঐক্যবদ্ধ, আরও অভিজ্ঞ এবং ব্রাজিল বিশ্বকাপে যেমনটা ছিলাম তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। আমাদের অভিজ্ঞতা ও ভালো মান আছে। আমাদের খেলোয়াড়রা সেরা ক্লাবে, সেরা লিগে খেলে। তারা এ ধরনের বড় ম্যাচ খেলতে অভ্যস্ত। তাই কোনো কিছু আমাদের ভীত করতে পারবে না। অন্যদিকে গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড দলের বদলে যাওয়াটা অনুভব করছেন জেসি লিনগার্ড। কলম্বিয়া ম্যাচ সামনে রেখে এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে গ্রুপ পর্ব তারা কিভাবে শেষ করেছেন সেটা নিয়ে তারা ভাবছেন না। অনেকের চোখে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফেভারিট ইংল্যান্ড। অসপিনাও সমীহ করছেন গ্যারেথ সাউথগেটের দলকে। তবে কলম্বিয়ার জন্যও সতীর্থরা সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দেবে বলে বিশ্বাস তার। রাশিয়ার আসরে বিশেষভাবে নজর কাড়া কলম্বিয়ার সমর্থকদের কাছ থেকেও অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন এই গোলরক্ষক। ইংল্যান্ড একটা ভালো দল কিন্তু আমরা কার মুখোমুখি হব সেটা নিয়ে ভাবি না। আমরা শুধু জানি আমরা দেশের জন্য সবকিছু দিব এবং সমর্থকদের কাছ থেকে শক্তি সঞ্চয় করব। রাশিয়াতে তাদের সমর্থন পাওয়া আমাদের কাছে অনেককিছু। আমাদের কাছে প্রতিটি ম্যাচে ঘরের মাঠে খেলার মতো মনে হচ্ছে। তারা খুব উল্লাস করে এবং অনেক রঙিন। আমরা সব সময় বাকিদের চেয়ে বেশি সমর্থক মাঠে পাই।
তিউনিসিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু করা ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পানামাকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৬-১ ব্যবধানে। আট পরিবর্তন এনে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরে জি গ্রুপে রানার্সআপ হয় সাউথগেটের দল। গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় শেষ ষোলোয় ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। এবার কলম্বিয়াকে হারাতে পারলে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে ইংল্যান্ডের বাঁধা সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে যে কোনো দুই দেশ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিকে ইংল্যান্ডের জন্য দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলে বর্ণনা করেছেন গ্যারেথ সাউথগেট। সংবাদ সম্মেলনে লিনগার্ড জানালেন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছেন কোচ। এটা নতুন একটা বিপ্লবের মতো মনে হচ্ছে। কোচ দারুণ ধ্যান-ধারণা নিয়ে এসেছেন। ফরমেশন আমাদের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মানায়। এটা একটা তারুণ্যে ভরপুর দল; কিন্তু আমাদের দলে এখনও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আছে; চমৎকার টিম স্পিরিট আছে। গ্রুপের রানার্সআপ হওয়ায় ইংল্যান্ডের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে লিনগার্ড বলেন, আগে বা পরে আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আপনাকে যদি বিশ্বসেরা হতে হয় তাহলে সেরা দলগুলোকে হারাতে হবে। আমরা কোন পাশ বেছে নিয়েছিলাম সেটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সবাই যে কোনো কিছুর চেয়ে বেশি উন্মুখ হয়ে আছে। এ প্রতিযোগিতায় অনেক দূর যাওয়ার জন্য এটা আমাদের সামনে বড় একটি সুযোগ। আমার বিশ্বাস আমরা সেটা করতে পারি। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার সুযোগ ইংল্যান্ডের সামনে। ২০১০ সালে শেষ ষোলো এবং গত ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। কলম্বিয়াকে হারিয়ে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সহজ হবে না বলেও সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন লিনগার্ড। কলম্বিয়া দারুণ একটা দল। তাদের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক আছি। কিন্তু আমরা আমাদের মান এবং আমাদের ?হুমকি কি তা জানি; তাই আমরাও তাদেরকে কিছু সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারি। এদিকে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি কেন বলেন,আমার লক্ষ্য সোনার বুট নয়, বিশ্বকাপ জেতা। তিনি বলেন, আমি যদি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে নামতাম, তাহলে সেই ম্যাচে গোল না পেলে পরের ম্যাচ খেলতে নামার আগে ভাবতাম, গত ম্যাচে গোল পাইনি। কিন্তু আমি শেষ যে ম্যাচ খেলেছি, সেটিতে হ্যাটট্রিক করেছি। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি। এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, সব ম্যাচেই গোল করতে পারি। বিশেষ করে যখন আমার দিকে বল আসছে আর পরিস্থিতি আমার পক্ষে। তাই মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করছি। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগে দুটি ম্যাচ খেলেই পাঁচ গোল করে ফেলেছেন কেন। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাকে খেলাননি ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবেই খেলবেন ইংল্যান্ডের এই গোলমেশিন। টটেনহামের এই স্ট্রাইকার এবারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে সবার আগে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সোনার বুট পেলে দারুণ লাগবে। এই প্রতিযোগিতায় আমরা এগোতে পারলে আমার সোনার বুটে পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে আমার লক্ষ্য সোনার বুট নয়, বিশ্বকাপ জেতা। তার সঙ্গে যদি সোনার বুটও পেয়ে যাই, তাহলে সবচেয়ে ভাল হবে। রেকর্ডের পিছনে না ছুটে দলকে সাহায্য করতে চাই। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এদিকে ইনজুরি আক্রান্ত কলম্বিয়ার তারকা হামেস রদ্রিগেজকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নাও দেখা যেতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৩১ মিনিটে ফারনান্দো মুরিয়েলের পরিবর্তে মাঠে নামেন রদ্রিগেজ। কিন্তু মাঠে নেমেই পেশীতে ব্যথা অনুভব করায় তাকে তুলে নেন কোচ। জাপানের বিপক্ষে খেলতে নেমেও পেশীতে টান নিয়ে ৫৯ মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান কলম্বিয়ার এই তারকা। তবে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো সময় খেলেই মাঠ ছাড়েন তিনি এবং ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও যায় তার ঝুলিতে। গত জানুয়ারি থেকেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন রদ্রিগেজ, বিশ্বকাপেও সেই চোটের রেশ রয়ে গেছে।

Leave a Reply