আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে নক আউট পর্বে ক্রোয়েশিয়া

খেলার খবর

মস্কো: আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নেমে আর্জেন্টাইনরা মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি।

প্রথমার্ধ গোল ছাড়াই শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন এ্যান্টে রেবিচ। এ্যান্টে রেবিচের পর দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা মড্রিচ। শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোল করে আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে নক আউট পর্বে নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলমোদীদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হতাশ করেছে।

চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারণা করা হয়েছিল ম্যাচটি সহজে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করবে লিওনেল মেসিরা।

কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। নবাগত আইসল্যান্ড রুখে দিয়েছে তাদের। ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়া ম্যাচটি আর্জেন্টাইনদের জন্য দুঃস্বপ্নই হয়ে রইল। বৃহস্পতিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নক আউট পর্বে উঠতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই মেসিদের সামনে।

শনিবার মস্কোয় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো মাঠেই দাপট নিয়ে খেলেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। এদিন আইসল্যান্ডের গোল মুখে ১১টি শট নেন মেসি। কিন্তু একটিকেও গোলে পরিণত করতে পারেননি লাতিন অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। মিস করেছেন পেনাল্টিও। বিপরীতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দারুণ শুরু পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ২০ নম্বরে। এর আগে ৪ বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। যার মধ্যে দুইটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়া জিতেছে একটিতে। বাকি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেটি ১৯৯৮ সালে—গ্রুপপর্বে। সেই ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

বলা বাহুল্য, এই সবই পরিসংখ্যান। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে জয় পেতে হলে মাঠেই নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে মেসিদের। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে অনেকটাই নির্ভার ক্রোয়েশিয়া। ফলের আজকের ম্যাচে তারা থাকবে চাপমুক্ত। যা তাদের অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।

আর প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর সামালোচনায় বিদ্ধ আর্জেন্টিনা। চাপে আছেন মেসি নিজেও। তবে সেই চাপ উপেক্ষা করে জ্বলে ওঠার শক্তি আছে বলেই তো তিনি মেসি। বর্তমান বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলারের তিনি একজন।

Leave a Reply