বিএনপির জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না : ওবায়দুল কাদের

রাজনীতি

‘বিএনপির জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, ‘যদি জেলকোড অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর প্রয়োজন হয় সেটা বিবেচনা করবে সময়।’

সোমবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি বিচার বিভাগ মানে না বলেই, খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি আগামী নির্বাচনে যাওয়ার শর্ত বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কার কাছে শর্ত দিচ্ছেন? কে তাকে মুক্তি দেবে? কে তাকে দণ্ড দিল? আদালতে যান। সরকারের কাছে শর্ত দিয়ে লাভ নেই। সরকার তাকে জেলে নেয়নি। সরকার তাকে দণ্ড দেয়নি। সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারে না। আদালতের সিদ্ধান্তই হচ্ছে তার মুক্তির সম্পর্কে শেষ কথা। এখানে সরকারের কোনো করণীয় নেই। সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি মামাবাড়ির আবদার। এই আবদারটা না করলেই ভালো।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো সংক্রান্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি চৌধুরী) বক্তব্যের সূত্র ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দাবিটা বিএনপি করুক। যদি জেলকোড অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর প্রয়োজন হয় সেটা বিবেচনা করবে ‘সময়’।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে জেনারেল সেক্রেটারি বৈঠক করবে এটাই স্বাভাবিক। এটা নিয়ে মন্তব্য নেই। মন্তব্য হচ্ছে, দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করা এবং এই ধরনের রাজনীতি কি গণতন্ত্রে সংগত? দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কি কোনো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে পারেন? এটাই হলো আমাদের প্রশ্ন?

দলের নেতাদের যে কোনো বিষয়ে ফ্রি-স্টাইলে কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, নির্বাচন কৌশলগত বিষয়। আমাদের জোটের রাজনীতিরও কৌশল আছে। কাজেই নেতাদের প্রতি অনুরোধ, সব বিষয়ে ফ্রি-স্টাইল কথা বলবেন না। দলের নীতি-কৌশল, জোট গঠন এই সব নিয়ে ফ্রি-স্টাইল কথা বলা দলের জন্য শুভ নয়। আমাদের এক ভয়েস, এক টোনে কথা বলতে হবে। সব বিষয়ে সবার কথা বলার প্রয়োজন নেই। যারা যে বিষয়ে কথা বলার, সেই পর্যন্ত বলবেন।

Leave a Reply