নবীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় শাশুড়ি পুত্রবধূ খুন!

সিলেট বিভাগ

নিজাম ইউ জায়গীরদার : হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটককৃত দুই ঘাতক। এ ঘটনায় নেপথ্যের মূল কারণ ছিল লন্ডন প্রবাসীর সুন্দরী স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা এসব তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের এমন লোমহর্ষক তথ্য দেয় গ্রেপ্তারকৃত মো. তালেব ও জাকারিয়া আহমেদ শুভ।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা জাহান। বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ কার্যালয়ে গ্রেপ্তাকৃত আসামীদের দেয়া জবানবন্দি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা এসব তথ্য জানান।

নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে গত ১৩ মে লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলা করেন নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম।

নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করে। জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকায় একই গ্রামের মো. তালেব ও জাকারিয়া আহমেদ শুভকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমোতাবেক হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, লন্ডন প্রবাসীর সুন্দরী স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল ওই দুই ঘাতক। তারা প্রথমে চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে শাশুড়িকে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের পর সে পরিকল্পনা কাজে আসেনি তাদের। চাকু দিয়ে একাধিক আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেলে। তার চিৎকারে পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনিও মারা যান। তিনি জানান, আসামীদের দেয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু, আসামীদের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আখলাক চৌধুরীর বাড়িতে নারীদের চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে বাড়ির উঠানে আখলাকের স্ত্রী রুমি বেগমের (২২) রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় তার শাশুড়ি মালা বেগমের (৫৫) লাশ। ঘটনার পরদিন নিহত রুমি বেগমের ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মা ও স্ত্রীর হত্যার খবর পেয়ে দেশে আসেন আখলাক চৌধুরীও।

সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আ স ম সামছুর রহমান ভূঞা, নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আতাউর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply