খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে ১৩০১ চিকিৎসকের গভীর উদ্বেগ

জাতীয়

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ও তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের প্রথিতযশা চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে বিবৃতির মাধ্যমে এক হাজার ৩০১ জন চিকিৎসক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও সুচিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, ‘বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আমরা চিকিৎসক সমাজসহ দেশের ১৬ কোটি জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছি।’

চিকিৎসকরা বলেন, ‘বর্তমানে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, প্রতিরাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, কাশি ও জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তার ডান চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে, সার্ভভাইকাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে বাম হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কোমরের সমস্যার কারণে তার শরীরের বাম পাশ ও বাম পায়ের তীব্র ব্যথা ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামছে। তিনি হাঁটা চলাও করতে পারছেন না।’

বিবৃবিতে চিকিৎসকরা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ, স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত, নির্জন কারাগারে বন্দি করে রেখেছে সরকার। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

চিকিৎসকরা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত। ইতিপূর্বে তার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করেছেন। তিনি কোনো সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। সে হিসেবে তার একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সব সুবিধা নিশ্চিত করা সব সভ্য গণতান্ত্রিক ও মানবিকতা বোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য।’

চিকিৎসকরা বলেন, ‘দেশের ও বিদেশের সাধারণ মানুষ, জ্যেষ্ঠ নাগরিক, সুশীলসমাজ, পেশাজীবী, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, নর-নারী নির্বিশেষে এই চলমান ঘটনাবলিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের সাথে সাথে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হীন চক্রান্তের অবসান ঘটানোর জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আসছে। আমরা চিকিৎসক সমাজ ১৬ কোটি জনগণের প্রাণের নেত্রী খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি এবং সুচিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসাপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, অধ্যাপক ডা. মবিন খান, অধ্যাপক ডা. বায়েছ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লা, অধ্যাপক ডা. এ এস এম এ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. খাদিজা বেগম, অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক, অধ্যাপক ডা. আজিজ রহিম, অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির, অধ্যাপক ডা. হরুন অর রশিদ, অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামিমুর রহমান, অধ্যাপক ডা. গোলাম মঈনউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, অধ্যাপক ডা. সেলিনা খানম, অধ্যাপক ডা. মনির হোসেন, অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিনম অধ্যাপক ডা. সেলিমুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মো. হায়দার আলীসহ এক হাজার ৩০১ জন চিকিৎসক।

Leave a Reply