কেসিসি নির্বাচন আজ, জয়ের জন্য মরিয়া দু’দলই

রাজনীতি

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আর কিছুক্ষণ পরেই ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হবে কেন্দ্রগুলোয়।

নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নগরবাসীও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যুগ্ম-সচিব এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন খুলনা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল নিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, খুলনা সিটিতে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃখঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ নির্বাচনে পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে পুলিশের মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র্যারবের একটি করে মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে দুই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ১০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ইভিএম থাকবে। তাতে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ভোট দেবেন ভোটাররা। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে।

এছাড়া দৌলতপুর সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেন্ট্রাল রোডের পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পিটিআই মোড়ের প্রশিক্ষণ ভবনের ২য় ও ৩য় তলায় নির্বাচনের দিন সিসি ক্যামেরা থাকবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ কেন্দ্রগুলো সরাসরি মনিটরিং করা হবে।

এদিকে রবিবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। এ নির্দেশনার লঙ্ঘন হলে ৬ মাস থেকে ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়াও শনিবার দিবাগত রাত ১২টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা রয়েছে। রবিবার রাত ১২টার পর থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। সোমবার রাত ১২টা থেকে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো চলাচল নিষিদ্ধ।

খুলনা সিটিতে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও দশটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি ও মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।

মেয়রপদে প্রার্থী
এবার খুলনা সিটি নির্বাছনে মেয়রপদে প্রার্থী পাঁচজন প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু। এর মধ্যে সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীর দিকেই। নগরবাসীও ধারণা করছেন মূল লড়াই তাদের দুজনের মধ্যেই।

এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ভোট নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। এরই মধ্যে বিএনপি ও তাদের প্রার্থীর পক্ষে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply