প্রধানমন্ত্রীর ওপরে কোটা আন্দোলনকারীদের বিশ্বাস রাখা উচিত : কাদের

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কথার ওপর আস্থা রাখতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী সংসদে দিয়েছেন। কোটা থাকবে না এটা তিনি বলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথার ওপরে বিশ্বাস রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা বলেন সেটা তিনি করেন। তার কথার নড়চড় হয় না।’

অনেকগুলো কোটা আছে। এগুলো সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কাজ থেমে নেই বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামীকাল সোমবার সকাল থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেওয়ার পর পরই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসল। ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

ফেনীর যানজটে জনভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ফেনী শহরের ফতেহপুরে রেলওয়ের ওভারপাসের নির্মাণকাজ শেষের দিকে। আগামী ১৫ মে ওভারপাসের একাংশ খুলে দেওয়া হবে। আগামী ২০-২৫ দিন পর পুরো কাজ শেষ হবে। ঈদের সময় মানুষ আর ভোগান্তিতে পড়বে না। এখন মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করলেও সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন তাই ‘ফাইনাল’ এবং সেই অনুযায়ী ‘খুব শিগগির’ প্রজ্ঞাপন জারির কাজ চলছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ নিয়ে ‘আন্দোলন সমীচীন নয়’ বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদে যা বললেন সেটার আবার গেজেট প্রকাশের জন্য আন্দোলনের হুমকি, এটা বোধহয় সমীচীন হচ্ছে না। আমি ছাত্র সমাজকে বলব, তাদের দাবির ব্যাপারে সরকার খুবই সহানুভূতিশীল এবং সরকার সক্রিয়।’

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা বাতিলের যৌক্তিক সমাধানের সব রকম প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। কাজেই আমি তাদের বলব, একটু ধৈর্য ধরতে। অনতিবিলম্বে তারা সমাধান পেয়ে যাবে। এই নিয়ে আন্দোলন পরীক্ষা, ক্লাস বর্জন করা ঠিক হচ্ছে না।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া থেমে নেই। সময়মতোই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই ফাইনাল।এই ইস্যুতে আন্দোলনের হুমকি সমীচীন নয়। ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দিয়েছেন। কোটা থাকবে না এটা তিনি বলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা বলেন সেটা তিনি করেন। তার কথার নড়চড় হয় না। এখানে অনেক কোটা আছে। এগুলো সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজ থেমে নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বিষয় নিয়ে এখানে যদি কেউ রাজনীতি করতে চান, তাহলে ভিন্ন কথা। যৌক্তিক সমাধান যারা চান তাদের প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথার ওপর আস্থা রাখা উচিত। বিশ্বাস করা উচিত। আমি এই কথাটাই বলতে চাই।

আজ ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে কাল থেকে ধর্মঘট

আজ বিকাল ৫টার মধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে সোমবার থেকে দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্নিদিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান।

এর আগে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সমবেত হন। এর পর পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নুরুল হক নূর ও ফারুক হাসানের নেতৃত্বে তারা মিছিল বের করেন।

এ সময় পরিষদের নেতারা বলেন, ‘গত ৩২ দিনেও সরকার কোটার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না করায় আমরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। অনেক সময় দেওয়া হয়েছে, আর নয়। এবার প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’

পরে মিছিলটি কলাভবন, মল চত্বর, ফুলার রোড, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে টিএসসিতে এসে শেষ হয়।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আজ ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply