জাতীয় নার্সিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

রাজধানীর মুগদায় জাতীয় নার্সিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন।

এর আগে শুক্রবার (১১ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে তিনি বলেন, আমিও ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলাম। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অবদান আছে। বাঙালির অর্জনের সঙ্গে ছাত্রলীগ ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্য কিছু কিছু ছাত্রলীগ নেতা বিপথে চলে গেছে। এখনও দুই-একজন বিএনপিতে পাওয়া যাবে। এরা বেঈমান, মুনাফেক, আদর্শহীন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের আগামী দিনের নেতা নির্বাচন করতে একে অপরকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ ত্যাগের মানসিকতা না থাকলে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। তাই আমি চাই, সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি আসুক।’

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বয়সের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে বয়সের একটি বিষয় আছে। বর্তমান কমিটির নেতাদের যখন নির্বাচিত করা হয়েছিলো তখন বয়সসীমা ছিলো ২৭ বছর। এবার যেহেতু মেয়াদের নয় মাস পর সম্মেলন হচ্ছে, তাই আমি চাই না কেউ বঞ্চিত হোক। এবারের কমিটি হবে ২৮ বছরের মধ্যে।’

‘এখন আর কোনেো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট নেই। তাই ২৩-২৪ বছরের মধ্যে মার্স্টার্স শেষ হয়। আর ২৮ বছরের মধ্যে ডাবল মার্স্টার্স করা যায়। এ বয়সসীমার মধ্য থেকে সমঝোতার মাধ্যমে আগামী দিনের নেতৃত্ব বাছাই করা হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন লোকের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে হবে যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে।’

শুক্রবার বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন শুরু হয়। এর আগে দুপুরের আগে থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী অভিমুখে জড়ো হতে থাকে। সমাবেশে আগত সংগঠনটির নেতাকর্মীদের পদচারণা ও শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

সরজমিনে দেখা গেছে, দুপুরে সম্মেলন অনুষ্ঠান হলেও সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও বাইরে থেকে টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভিড় করছেন। সংগঠনটির নারী নেত্রীদেরকেও মিছিল নিয়ে কাতারে কাতারে সম্মেলন স্থলে আসতে দেখা গেছে।

এদিকে সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে সম্মেলকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন প্রবেশ পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে উদ্যান ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

সম্মেলনের মাধ্যমে শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য তিন শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। শীর্ষ দুটি পদে সর্বশেষ সম্মেলনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলেও এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতা নির্বাচিত হবে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, অন্তত দুই প্রজন্ম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এমন পরিবারের সন্তানদের এবং বিভিন্ন সময়ে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়, মেধাবী ছাত্রদের হাতে এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply