বিজয়ী হওয়ার দাবি মাহাথিরের, মালয়েশিয়াজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা চলছে

আন্তর্জাতিক

কুয়ালালামপুর : এখনও ভোট গণনা চলছে। অনানুষ্ঠানিক ফল আসছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনালের ৫৬ আসনের বিপরীতে ৬০ আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মোহাম্মদের দল পাকাতান হারাপান। সরকার গঠনে প্রয়োজন ১১২ আসন পেতে এখনও প্রয়োজন ৫২ আসন। কিন্তু তার আগেই মাহাথির মোহাম্মদ নিজেকে ‘কার্যত’ বিজয়ী বলে দাবি করেছেন। তবে মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশন এখনও এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এ খবর দিয়েছে স্ট্রেইটস টাইমস।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, বেশিরভাগ আসনের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দৃশ্যত মনে হচ্ছে আমরা কার্যত ১১২ আসনের টার্গেট অর্জন করেছি। আর বারিসান ন্যাশনালের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা তার অনেক কম। আমাদের আসন সংখ্যা ছোঁয়ার কোন সম্ভাবনা তাদের নেই।’

মাহাথির আরো বলেন, ‘এটা ভূয়া সংবাদ নয়। তারা অনেক পেছনে। দৃশ্যত সম্ভাবনা হলো তারা সরকার গঠন করছে না। আমাদের বিশ্বাস কিছু বৈঠক, আলোচনা চলছে। আর এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য আসলে কি তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’ এতে বড় বড় কিছু নাম যুক্ত আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী এবারের ভোটে ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনালের শক্ত ঘাঁটি বিবেচিত বেশ কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে মাহাথিরের পাকাতান হারাপান। এছাড়া কুয়ালালামপুরসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে মাহাথির সমর্থকদের সাথে সরকার সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

উন্নয়নের দিক থেকে মালয়েশিয়াকে এশিয়ার ইউরোপ বলা হলেও দেশটিতেও রয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সেখানে কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার অভিযোগ পুরনো। গত কয়েক বছরে নাজিব রাজাকের প্রধান সমালোচকে পরিণত হওয়া আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মাহাথির এই অভিযোগকে আরও বেশি আওড়েছেন এবার। ফলাফল বিরুদ্ধে গেলে দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়ায় কি-না, সে নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির সাধারণ জনগণ দুই জোটের হয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ মে) দেশটির স্থানীয় সময় রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গত ৬ এপ্রিল পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনটি ক্ষমতাসীন জোটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মাহাথির মোহাম্মদ যদি নির্বাচনে অংশ না নিতেন, তাহলে এ নির্বাচন একপেশে হতো বলে অনেকের ধারণা। তার সাবেক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনকে এ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে ২০০৩ সালে এ দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন মাহাথির। সেখান থেকে পদত্যাগের পর মাহাথির নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। সে দল সরকার বিরোধী জোটে যোগ দেয়।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি বলা হয়। তিনি ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল ইউএমএনও টানা পাঁচবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। টানা ২২ বছর পর ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন।

অপরদিকে স্টেট ফান্ড অর্থ কেলেঙ্কারি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে নিয়ে তেমন সন্তুষ্ট নন মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি ৭০০ মিলিয়ন ডলার নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে রাজাক বলেছেন, এ অর্থ সৌদি সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া।

এতো কিছুর পর ভোটগ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের অপেক্ষা। যার মাধ্যমে হবে রাজাক যুগের অবসান, নতুবা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!

Leave a Reply