ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত

জাতীয়

ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। নিজ নিজ গুনাহ মাফের আশায় আল্লার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি-সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবে বরাত।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা গিয়েছে, আল্লার নৈকট্য লাভে রাতভর নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও নফল ইবাদতে মশগুল আছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। পুরনো ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্তি আর পাপ ও পঙ্কিলতা মুক্ত আগামী দিনের কামনায় মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বিশেষ দোয়া করছেন।

পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দুই হাত তুলে অশ্রু বিসর্জন। এভাবেই মসজিদে-মসজিদে রাতভর নফল ইবাদত ও মোনাজাতে মগ্ন আছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। উদ্দেশ্য মহিমান্বিত লাইলাতুল বরাতের রাতে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ, পাপ মুক্তি ও সুন্দর আগামীর। মর্যাদাপূর্ণ শাবান মাসের মাঝামাঝি এ পবিত্র রজনীতে নফল এবাদত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আলেমরা। তবে শবেবরাতের সুনির্দিষ্ট কোনো নামাজ নেই বলে জানান অনেক আলেম।

বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম বলেছেন, ‘আমরা এই রাতে অধিক পরিমাণে এবাদত বন্দেগি করব। তবে সেই সাথে অবশ্যই লক্ষ্য রাখব, এবাদত করতে গিয়ে নিজেদের মনগড়া কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করব না। যেইভাবে কোরআন এবং হাদিসে এসেছে সেভাবে আমরা এবাদত বন্দেগি করব। যেকোনো সুরা দিয়ে যেকোনোভাবে নামাজ পড়লেই হবে, কোনো সমস্যা নেই।

এবাদত ছাড়া এ রাতে আতশবাজি কিংবা হালুয়া রুটির আয়োজনসহ যেকোনো জাকজমকপূর্ণতার আয়োজন করা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে ইসলামে।

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম বলেন, ‘আমি এলাকার মাইক ব্যবহার করে এরকমভাবে জিকির করতে শুরু করব ওই এলাকায় যত মা-বোন আছে, ছোট বাচ্চা আছে সবার ঘুম হারাম হয়ে গেল, সকলের এবাদত বন্দেগি নষ্ট হয়ে গেল, এটা করা যাবে না। আতশবাজি ফুটিয়ে বা এই ধরনের চিল্লাচিল্লি এবাদতের বিঘ্ন ঘটানোর তো প্রশ্নই আসে না।

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম আরো বলেন, ‘মা-বোনদের দেখা যায়, এই রাতে হালুয়া-রুটি তৈরিতে তারা ব্যস্ত থাকে। এটা একেবারেই ইসলামের সাথে এর সম্পর্ক নেই। যেটা এবাদত না, সেটাকে এবাদত মনে করলে অবশ্যই গুনাহ হবে।’

তবে এ রাতেই মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় এ বিষয়ে একমত নন আলেমগণ।

এদিকে সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যদিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবে বরাত। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করছেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও বিশেষ মোনাজাত ও দোয়াখায়েরে শামিল আছেন।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

সৌভাগ্যের এ রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন।

এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা আগামীকাল নফল রোজাও পালন করবেন বলে অনেক মুসল্লিরা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রুহুল আমিন নামে এক মুসল্লি জানান, আজ সারারাত ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিগত দিনের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবো।

বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে রাতভর চলছে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য এবাদত-বন্দেগি ও মোনাজাত।

মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এ রাতেই মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের ‘রিজিক’ নির্ধারণ করে থাকেন।

রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগি, জিকির ছাড়াও পবিত্র এ রাতে মুসলমানরা মৃত বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করছেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

মহিমান্বিত এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে- ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ, নাত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত।
পবিত্র এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এবাদত-বন্দেগির জন্য জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদ সারা রাত খোলা রয়েছে।

এ রাতের বিশেষ অনুষঙ্গ কবর জিয়ারতের পাশাপাশি মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মসজিদে মসজিদে এশার নামাজের পর থেকেই দফায় দফায় ওয়াজ মাহফিল, জিকির ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বাদ ফজর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর রহমত কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের সমাপ্ত হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

পবিত্র শবেবরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ঢাকা নগরীতে আতশবাজি, পটকা ফাটানো এবং যেকোনো ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

Leave a Reply