কানাইঘাটে বিরোধ থামাতে গিয়ে এক মুরব্বী খুন

সিলেট বিভাগ

কানাইঘাটে জমি দখলের জের ধরে উভয় পক্ষের সংর্ঘষ থামাতে গিয়ে ধারালো ছোরার কোপে ফারুক আহমদ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কালিনগর আগফৌদ গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত জহির আলীর পুত্র ফখরুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে মৃত মকবুল আলীর পুত্র সাহেদ আহমদ ও বাউরবাগ চতুর্থ খন্ড গ্রামের ফরিদ আহমদের জমি দখল করে রাতের আধারে কলা গাছের চারা রোপন করে জমি দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় সাহেদ আহমদ ও তাদের পক্ষের লোকজন এলাকার মুরব্বী ফারুক আহমদ (৫৫) সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল দেখাতে ও জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ফখরুল ইসলামের কাছে জমি দখলের কারণ জানতে চান। এতে ফখরুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বসত ঘর থেকে ধারালো দেশীয় ছোরা নিয়ে হাজী ফরিদ আহমদ ও সাহেদসহ অন্যদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে। এ হামলা থামাতে মুরব্বী ফারুক আহমদ এগিয়ে গেলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক ফখরুল দেশীয় ছোরা দিয়ে তাকে কুপিয়ে সুরইঘাট বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। এতে স্থানীয় জনতা তাকে বাজারে ধাওয়া করলে সে ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিনের হোটেলের দোতলায় আশ্রয় নেয়। এ সময় শতাধিক লোকজন তাকে দরজা বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার এসআই স্বপন চন্দ্র সরকার ও পান্না লাল দেব এক দল পুলিশ নিয়ে জনতার রোষানল থেকে ঘাতক ফখরুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। অপরদিকে, মুরব্বী ফারুক আহমদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘাতক ফখরুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার লাগানো দখলীয় জমির গাছপালা কেটে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই আফতাব উদ্দিন জানান, ঘাতকের সাথে তাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। তার ভাইকে সাহেদ ও তাদের পক্ষের লোকজন বিচারের জন্য নিয়ে এলে সে এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ঘাতক ফখরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়ে বলেন, সে এলাকার একজন চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ। তার দেনদরবারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। এদিকে, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ জানান, ঘটনার সাথে সাথে ঘাতক ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশি তৎপরতায় সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং নিহতের লাশ ময়না তদন্তের ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।

Leave a Reply