ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা, পাল্টা জবাবে ১১ রুশ রণতরী ছেড়েছে সিরিয়া!

আন্তর্জাতিক

দামেস্ক : বেজে উঠেছে ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা।সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের অবৈধ বিমান হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন পরাক্রমশালী রাশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট। তার নির্দেশেই পাল্টা জবাব দিতে ১১ রুশ রণতরী ইতোমধ্যেই ছেড়েছে সিরিয়া! খবর এক্সপ্রেস ইউকে ও ডেইলি স্টার ইউকে

এক্সপ্রেস ইউকে ও ডেইলি স্টার ইউকে বলছে, ট্রাম্পের হুমকির পরই সিরিয়ার তারতাস নৌঘাঁটি থেকে উধাও হয়েছে ১১টি রুশ যুদ্ধজাহাজ। মাত্র একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন রয়েছে বন্দরে। সেটির সুরক্ষায় মোতায়েন রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এস-৪০০’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম।

এক্সপ্রেস ইউকে আরো জানায়, স্যাটেলাইটের ছবিতে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে যে গোপনে রুশ রণতরীগুলো এমন জায়গাতে অবস্থান করছে যাতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তরীগুলো গুড়িয়ে দেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিতে গোপনে সাগরে পাড়ি দিয়েছে রুশ রণতরীগুলো। আর এই গোপন শক্তিতেই রাশিয়া বার বার বলছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জায়গা তারা ভূমির সাথে গুড়িয়ে দিতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ায় বিমান হামলা চালানোর ফল ভুগতে হবে আমেরিকাকে।

এদিকে হামলার জবাবের পারদ চড়িয়ে, শনিবার এমনটাই হুমকি দিল রাশিয়া। আসাদ বাহিনীর উপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা। এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনকে পরিণামের হুমকি দিয়েছেন আমেরিকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত এনাতলি আন্তনোভ।

আসাদ বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে সিরিয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার পাল্টা দাপট দেখাতে বাধ্য হয়ে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেই দাবি অনেকের। তারই প্রতিফলন ঘটছে রুশ কূটনীতিবিদদের বয়ানে।

শনিবার রুশ রাষ্ট্রদূত এনাতলি আন্তনোভ বলেন, ‘হামলার প্রতিক্রিয়ার জন্য তৈরি থাকুক আমেরিকা। এই আগ্রাসনের পরিণামের দায় সম্পূর্ণভাবে নিতে হবে ওয়াশিংটন, প্যারিস ও লন্ডনকে’। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভার মার্কিন ও ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে একহাত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া রিপোর্ট দেখেই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তাহলে এবার সিরিয়ায় যা হচ্ছে তার দায়িত্ব নিক সংবাদমাধ্যম। ইরাকের মতোই অজুহাত দেখিয়ে এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।’

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ ও বিদ্রোহীরা পুতুল মাত্র। আসলে লড়াই চলছে রাশিয়া ও আমেরিকার। ওই অঞ্চলে দাপট বজায় রাখতে মরিয়া ট্রাম্প ও পুতিন দু’জনেই। দৌমায় সারিন হামলার পাল্টা মার দেবে ওয়াশিংটন, এমনটা জানত মস্কো।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ায় আসাদের ঘাঁটিতে আক্রমণের নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের নির্দেশ পেতেই ঝাঁকে ঝাঁকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ে গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের মূল সেনাঘাঁটির দিকে। হামলার উদ্দেশ্য, আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রাগারগুলি ধ্বংস করে দেওয়া। পাল্টা আমেরিকাকে জবাব দিচ্ছে রুশ সাহায্যপ্রাপ্ত সিরিয়ার এলিট মিলিটারি ফোর্স রিপাবলিকান গার্ডের ফোর্থ ডিভিশন। তারা নিজেদের সক্ষমতায় ৭১ টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে ট্রাম্পের চোখ কপালে তুলে ফেলেছে।রাশিয়া মাঠে নামলে কী হতে পারে তা ভেবেই পেন্টাগন সামরিক কর্মকর্তারা এখন চিন্তিত বলেই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

Leave a Reply