নববর্ষ খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করার বছর : মোশাররফ

রাজনীতি

বাংলা নববর্ষের নতুন বছরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আগামী বছর হোক, এই মিথ্যার বিপরীতে সত্যের বিজয়ের বছর। আগামী বছর হোক স্বৈরাচারী গ্লানি মোচন করে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করার বছর। আগামী বছর হোক বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বছর।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংকৃতিক সংস্থা (জাসাস)। জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান সহ ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা আজকে শপথ নিতে চাই, নতুন বছরে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি নির্দলীয় সরকারের অধিনে, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করবো। আমরা একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। নতুন বছরকে এ দেশের বিজয়ের বছর হিসেবে দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বিগত যে বছরগুলো আমরা অতিক্রম করে এসেছি, ওই বছরগুলো এ জাতির জন্য ছিল হতাশার। ছিল স্বৈরাচারী শাসন ও দুর্ভাগ্যের বছর। গত বছর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে।’

মোশাররফ বলেন, ‘অতিক্রম করা বছরটিতে ব্যাংক লুট, রিজার্ভ চুরি, শেয়ারবাজার লুট হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত জীবন যাপন করছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে মোটা চাল ১০ টাকা কেজি খাওয়াবে বলেছিল। তাদের আমলেই মোটা চাল ৬০ টাকা কেজি হয়েছে। সকল দ্রব্যমূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যে বছরটি আমরা অতিক্রম করেছি, সেই বছরটিতে বর্তমান সরকারের হাতে গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের অধিকার ক্ষণ্ন, গুম, খুন, মিথ্যা মামলার মহড়া হয়েছে। সেই ভয়াবহ অন্ধকারের বছর আমরা অতিক্রম করে এসেছি।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আচরণ, চরিত্র ও কর্মকাণ্ডের কারণে এই সরকারকে বহির্বিশ্ব থেকে আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারীর তকমা নিয়ে আসতে হয়েছে। এটা জাতির জন্য, আমাদের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কের। যেখানে আমরা জাতিকে নিয়ে গৌরব করবো, সেখানে আমরা তকমা পেলাম স্বৈরাচারী দেশ হিসেবে। সরকার যিনি পরিচালনা করছেন, তিনি স্বৈরাচারিণী। এটা আমাদের জন্য গৌরবের নয়।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আবারও গায়ের জোরে ক্ষমতায় আসার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যার বিরুদ্ধে মামলা, হামলা হয়নি, কারাগারে যেতে হয়নি। এমনি একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমরা গত বছরটি অতিক্রম করেছি। গত বছরটি ছিল আওয়ামী লীগের পরিচালনায় একটি অন্ধকার যুগ। এই অন্ধকার যুগের নাম হচ্ছে আওয়ামী জাহেলিয়াতের যুগ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা সেই অন্ধকার থেকে আলোর পথে প্রবেশ করবে দেশ। আগামী বছর, বিগত বছরের সব জঞ্জাল-গ্লানি মুছে দিতে হবে। এজন্য আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে, সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে।

Leave a Reply