জার্মানিতে মানুষের ভিড়ে গাড়ি তুলে দিয়ে হামলা, নিহত চার

আন্তর্জাতিক

মুনস্টার : জার্মানির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুনস্টারে পথচারীদের ওপর একটি গাড়ি তুলে দেয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত চার জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩০ জন।

আহতদের অন্তত ছয় জনের অবস্থা সংকটজনক। খবর বিবিসি

জার্মানির পুলিশ বলছে, যে ভ্যানগাড়ী চালক এই কাজ করেছে, সে ঘটনার পর আত্মহত্যা করে।

ঘটনাটিকে একটি ‘হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। জার্মান পুলিশ এখনো পর্যন্ত এটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে বর্ণনা করেনি।

একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুনস্টার শহরের পুরোনো অংশে খোলা আকাশের নীচে একটি রেস্টুরেন্টের মাঝখানে এই গাড়িটি। চারপাশে গাড়িটির ধাক্কায় ভেঙ্গে পড়া টেবিল চেয়ার।

পুরো এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

২০১৬ সালে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ক্রিসমাসের মার্কেটে জনতার ভিড়ের মধ্যে একটি ট্রাক তুলে দেয়া হয়েছিল। ঐ ঘটনায় নিহত হয়েছিল ১২ জন।

সেবারের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল এক তিউনিসিয়ান অভিবাসী আনিস আমরি। জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানিয়ে সে ব্যর্থ হয়েছিল। তার সঙ্গে ইসলামী জঙ্গীদের সম্পর্ক ছিল।

জার্মানির বার্লিনে লরি চালিয়ে ‘হামলা’, ১২ জন নিহত

জার্মানির বার্লিনের একটি ক্রিসমাস মার্কেটে একটি লরি ঢুকে পড়ার পর অন্তত ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৮জন আহত হয়েছে।

আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দেশটির পুলিশ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, লরি ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আহত একজন পথচারী মারা গেছেন।

নিরপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ জানাচ্ছে, হামলাকারী লরির ড্রাইভার আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান থেকে আসা একজন শরনার্থী, যে ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি এসেছিল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে মার্কেটের বেশ কিছু দোকান ভেঙ্গে পড়েছে এবং আহত অনেক মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছেন।

জার্মানীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডে মেইজ্যেরে বলছেন, এটিকে একটি ইচ্ছাকৃত হামলা মনে করছে সরকার।

বার্লিনের শপিংকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত একটি রাস্তার কাছে এই সম্ভাব্য হামলার ঘটনাটি ঘটে।

বার্লিনের একটি পত্রিকা বলছে, পুলিশ একটি বিশেষ জায়গা নির্ধারণ করেছেন যেখানে স্বজনরা মিলিত হতে পারবেন।

লরি চালিয়ে মানুষ চাপা দেয়ার এই ঘটনার সাথে গত ১৪ই জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে লরি হামলার মিল রয়েছে। ঐ হামলায় ৮৬ জন নিহত হয়েছিল। পরবর্তীতে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট ঐ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।

ফেসবুক বার্লিনের বাসিন্দাদের জন্য একটি ‘সেফটি চেক’পেজ খুলেছে, যাতে যারা নিরাপদে আছে, তারা এর মাধ্যমে পরিবার পরিজনদের তা জানাতে পারে।

Leave a Reply