ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন

আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটন ডিসি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে হারবার্ট রেমন্ড ম্যাকমাস্টারকে সরিয়ে দিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বোল্টনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প নিজের এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে তার এ ঘোষণা কার্যকর হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো গত কয়েক সপ্তাহে বহুবার ম্যাকমাস্টারকে বরখাস্ত করার সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করছিল। কিন্তু প্রতিবারই হোয়াইট হাউজ বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে।

গত বছরের গোড়ার দিকে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগ করার পর ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এই পদে ম্যাকমাস্টারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আমেরিকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের ব্যাপারে সঠিক তথ্য গোপন করার অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন ফ্লিন।

এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে টুইটার বার্তার মাধ্যমে দ্বিতীয় মার্কিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে গত ১৩ মার্চ এক টুইটার বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক মাইক পম্পেওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

ট্রাম্প বলেন, টিলারসনকে বরখাস্তের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে তার সঙ্গে টিলারসনের বনিবনা না হওয়া। ট্রাম্প পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও টিলারসন শুরু থেকেই এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করছিলেন।

বরখাস্তকৃত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টারও ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করেছেন কিন্তু জন বোল্টন এ সমঝোতার একজন ঘোর বিরোধী।

ট্রাম্পের বরখাস্তের তালিকায় এবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার
ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার গঠনের পর বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে না মেলায় পদত্যাগ করেছেন।

সর্বশেষ পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে পদচ্যুত করেছেন ট্রাম্প। এবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টারকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই মুহূর্তে ম্যাকমাস্টারকে সরিয়ে দেবেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এ খবর দিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এমন পাঁচ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কিছু পদে সম্ভাব্য রদ-বদলের চিন্তা-ভাবনা করছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘে সাবেক মার্কিন দূত জন বল্টন এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান কেইথ কেলোগের নামও রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে পদচ্যুত করেন। তাছাড়া শীর্ষ পর্যায়ে রদ-বদল যে এখনও শেষ হয়নি সে ব্যাপারে সম্প্রতি ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।

টিলারসনকে বরখাস্তের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আসলে আমরা মন্ত্রী পরিষদ এবং আমি যা চাই তা নিয়ে খুব কাছাকাছি আসতে চাই।

উল্লেখ্য, শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়াসহ বেশ কিছু ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না টিলারসন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প টিলারসনকে বরখাস্ত করে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প খুব তাড়াতাড়ি ম্যাকমাস্টারকে বরখাস্ত না করে তাকে সময় দিতে চান, যাতে তিনি (ম্যাকমাস্টার) অপমানবোধ না করেন এবং তার স্থলে একজন দক্ষ লোককে বসানো যায়।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো মাখামাখি নেই। তাছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের প্রধান জন কেলিকে বলেছেন, তিনি চান কেউ ম্যাকমাস্টারের স্থলাভিষিক্ত হোক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ম্যাকমাস্টারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ হলো, তিনি খুব লম্বা কথা বলেন যা অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়।

উল্লেখ্য, তিন তারকাপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পের দ্বিতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এর আগে ছিলেন মাইকেল ফ্লিন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের আলোচনা নিয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

Leave a Reply